ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ কৌশলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী নন, তাই এর ফলাফল নিয়ে তিনি প্রভাবিত হবেন না। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং দেশটি নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে তিনি প্রস্তুত।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচন আমাকে প্রভাবিত করছে না। প্রথমত, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। তবে আমার দল লড়ছে এবং আমি দলকে সাহায্য করতে যাচ্ছি। আমি মনে করি আমার দল এই বিষয়টিকে সম্মান করে যে আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।"
হাউজ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর চলতি সপ্তাহের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান ভোটারদের চাঙ্গা করতে আগামী সপ্তাহে ডালাসে একটি দলীয় কনভেনশন আয়োজন করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনার আভাস মেলায় কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের থেকে তিনি কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। আগস্টে 'পাঞ্চবোল নিউজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, রিপাবলিকান সমর্থকরা কংগ্রেসের দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ, তার ওপর নয়। তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, তাদের অনেকেই রিপাবলিকানদের ওপর খুব রাগান্বিত। তারা রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষুব্ধ হলেও আমার ওপর নয়।" ব্যালটে তার নিজের নাম না থাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফল নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে না বলে ট্রাম্প এর আগেও মন্তব্য করেছিলেন। গত ২৭ মে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, "আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।" ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরানি নেতারা ভুলভাবে ধরে নিয়েছিলেন যে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে তিনি তার দাবি থেকে পিছু হটবেন। এদিকে, রিয়াল ক্লিয়ার পলিটিক্স-এর জরিপ অনুযায়ী, মেইন, টেক্সাস, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন এবং জাতীয়ভাবেও ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।



























