বিদেশি কলেজ গ্র্যাজুয়েট এবং বিশেষ পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ফি দ্বিগুণ করে ২০০,০০০ ডলারের বেশি করার চিন্তা করা হচ্ছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য ১০০,০০০ ডলারের ফি আরোপ করেছিলেন, যার ফলে বিদেশ থেকে নতুন আবেদনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। যদিও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক ওই ফি-কে 'বেআইনি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা স্থগিত করেন, তবে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত ২৪ আগস্ট প্রতিটি নতুন আবেদনের জন্য ১০৩,২৬৫ ডলার ফি ধার্যের প্রস্তাব করেছে। যদি ট্রাম্পের আগের ১০০,০০০ ডলারের ফি আদালতের মাধ্যমে বহাল থাকে, তবে একজন নিয়োগকর্তাকে প্রতি আবেদনকারীর জন্য মোট ২০৩,২৬৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগের উচ্চ ফি আরোপের প্রথম পাঁচ মাসে ৮৫ জন আবেদনকারী থেকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা গেলেও, আবেদনের সংখ্যা ৮৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় সংস্থাটি সামগ্রিকভাবে ২৮ মিলিয়ন ডলার কম রাজস্ব পেয়েছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের শেভ দালাল-ধেইনি এই পদক্ষেপকে এইচ-১বি কর্মসূচি ধ্বংসের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এই উচ্চ ফি মার্কিন উদ্ভাবনী শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে। তবে প্রশাসনের দাবি, এই ফি বাড়ানোর লক্ষ্য অর্থ উপার্জন নয়, বরং অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আগামী এক দশকে ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অভিবাসন প্রশাসনের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হবে।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অ্যামাজন ৯,৩৩৭ জন, অ্যাপল ৩,৮৭৯ জন, গুগল ৩,১৮০ জন এবং মেটা ২,৫৬৩ জন কর্মীকে এই কর্মসূচির অধীনে নিয়োগ দিয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই ভিসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, মায়ো ক্লিনিক এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগের ফি বহাল থাকলে তাদের বার্ষিক ৯ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হতো, যা গবেষকদের জন্য এক ধরনের নতুন করের মতো।
বিভিন্ন মহলে এই প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইটি পেশাজীবী আলভেস্টার জনসন মনে করেন, বিদ্যমান কম ফি বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া সহজ করে দেয়, যা আমেরিকান কর্মীদের জন্য বৈষম্যমূলক। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এডউইন ঝাংয়ের আশঙ্কা, এই ফি চিকিৎসক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবের ওপর জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, যা ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।























