নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের প্রাক্কালে মেইল-ইন ভোটের নিয়ম কঠোর করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগ সোমবার এই আবেদন জমা দেয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে মেইল-ইন ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করা। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিচারক ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছিলেন।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইন্দিরা তালওয়ানি প্রশাসনের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, অঙ্গরাজ্যগুলোর এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর আইনি ক্ষমতা নেই। গত জুন মাসে বিচারক তালওয়ানি রায় দিয়েছিলেন যে, ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম পরিবর্তনের কোনো এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ভোটার যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনসহ মার্কিন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিনি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের একটি ভোট বিধিনিষেধ প্যাকেজ পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের যোগ্য নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসাথে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যারা ভোট দেওয়ার যোগ্য নয় তাদের ব্যালট ইস্যুকারী নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের অগ্রাধিকার দিতে।
এই আদেশের আওতায় মার্কিন পোস্টাল সার্ভিসকে কেবল অনুমোদিত মেইল-ইন ব্যালট তালিকার ভোটারদের কাছেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল পোস্টাল সার্ভিস। ক্যালিফোর্নিয়া ও ম্যাসাচুসেটসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বস্টনের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে। ১২ জন রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল এই মামলায় ট্রাম্পের আদেশের সমর্থনে হস্তক্ষেপ করেছেন।
বিচারক তালওয়ানি জানান, মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি অবস্থান রয়েছে কারণ এই আদেশের ফলে তাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত খরচ এবং ফৌজদারি মামলার হুমকির সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেডারেল সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য সঠিক নাগরিক তালিকা তৈরির সক্ষমতা নেই। বিচার বিভাগ বস্টন-ভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের কাছে বিচারকের এই রায় স্থগিতের অনুরোধ জানালে, শনিবার আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। এর আগে জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট মেইল-ইন ব্যালট গণনা সংক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের আইনের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের একটি চ্যালেঞ্জও প্রত্যাখ্যান করেছিল।































