ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি মেয়াদের শাসনকালে তার প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের রক্ষণশীল ধারা এখন ইরান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে অস্বস্তি ও উদ্বেগের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের ওপর নির্ভরযোগ্য সমর্থন বজায় রাখলেও, চ্যানেলটির একাধিক প্রভাবশালী উপস্থাপক ও ভাষ্যকার বর্তমানে ইরান যুদ্ধের সাফল্য এবং মার্কিন কৌশল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। এটি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের জগতে ট্রাম্পের অবস্থানকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে।
চ্যানেলটির শীর্ষ ব্যক্তিত্ব লরা ইনগ্রাহাম নিয়মিতভাবে প্রশ্ন তুলছেন যে, ইরান যুদ্ধে আমেরিকা আসলেই কোনো কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে কিনা। তিনি ২৪ জুলাই তার অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, ইরান যদি এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুমকি তৈরি করতে পারে, তবে তা প্রমাণ করে যে তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা যায়নি। এর আগে জুনেও তিনি একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। এছাড়া মার্চ মাসে ইনগ্রাহাম ইরানের একটি স্কুলে ভুল হামলায় ১৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের অধিকাংশই শিশু, নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে 'ভয়ংকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাজেডি' হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ট্রাম্প যুদ্ধের জটিলতা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কোর স্টাফ সার্জেন্ট এবং ফক্সের অন্যতম প্রধান ভাষ্যকার জনি 'জোই' জোন্সও এই যুদ্ধে মার্কিন কৌশল নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করছেন। তিনি পিট হেগসেথের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, যিনি বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৮ জুলাই জর্ডানে দুজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর জোন্স সরাসরি প্রশ্ন করেন, মার্কিন কৌশল আদৌ কার্যকর হচ্ছে কিনা। তিনি বলেন, আকাশ থেকে বোমা ফেলে ইরানকে থামানো সম্ভব নয় এবং সময় এখন আমেরিকার পক্ষে নেই।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ, যিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে ইউক্রেন বিষয়ক দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, বুধবার ফক্স নিউজে মন্তব্য করেছেন যে ট্রাম্পের কৌশল পরিবর্তন করা জরুরি। তিনি বলেন, কেবল বোমাবর্ষণের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়। এছাড়া ফক্স নিউজের বিশ্লেষক ব্রিট হিউম এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, 'ট্রাম্প অন্তহীন যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অথচ এখন তিনি এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন যার শেষ কোথায় তা অস্পষ্ট। রাজনৈতিক দিক থেকে তিনি এখন বেশ ঝুঁকিতে আছেন।'
চ্যানেলটির অন্যান্য ব্যক্তিত্ব যেমন অ্যাঙ্কর জন রবার্টস ইরানের সাথে আলোচনার কৌশল নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন। একইসাথে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের উপস্থাপক স্টুয়ার্ট ভার্নি মার্চ মাসে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিলেন, 'হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা আছে।'



























