হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাকস প্রথমবারের মতো পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে। দানিউব নদীতে পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার শুক্রবার জানিয়েছেন, নদীর পানির স্তর আরও কমার পূর্বাভাস থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকতে পারে।
বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে তার স্বাভাবিক ২০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অর্ধেক অর্থাৎ মাত্র ৯৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। চুল্লি শীতল রাখার জন্য কেন্দ্রটি দানিউবের পানি ব্যবহার করে, কিন্তু নদীর পানিস্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে পাম্পের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও কমানো হচ্ছে এবং মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে পুরো কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই বন্ধের প্রক্রিয়াটি নিরাপদে সম্পন্ন করা হবে এবং এতে জননিরাপত্তা বা পরিবেশের কোনো ঝুঁকি নেই।
সোভিয়েত আমলে নির্মিত চারটি চুল্লিসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি হাঙ্গেরির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়। ৪৪ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। হাঙ্গেরি ও মধ্য ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে কৃষি, পর্যটন ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় দানিউবের পানিস্তর বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই।
মাগিয়ার জানান, গত ২০ বছরের আগস্ট মাসে মাত্র তিনবার নদীর পানিস্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে পাকস এলাকায় পানির স্তর রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০১৮ সালে পানির স্তর রেকর্ড ৯৮ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গিয়েছিল, এবার তা মাইনাস ১৪৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। পানির স্তর মাইনাস ১৩৪ সেন্টিমিটারে পৌঁছালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করা বাধ্যতামূলক।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে হাঙ্গেরি সরকার বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টার পিক আওয়ারে। দেশটির জ্বালানি সংস্থা এমওএল (MOL) তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা ৪০ শতাংশ বা ৬৫ মেগাওয়াট-ঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোমবার ও মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশন স্থগিতের সুপারিশ করেছে সরকারের দল এবং সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলঙ্কারিক আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




























