ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সাথে এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন উন্নত প্রযুক্তির সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ধরনের প্রযুক্তি অন্য কাউকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
এই মাসের শুরুতে তুরস্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, এটি একটি বড় পদক্ষেপ এবং মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি শেয়ার করার বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি প্যাট্রিয়ট এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত অস্ত্র পেতে আগ্রহী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি কাউকে দিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে, রাশিয়া আকাশপথে হামলা জোরদার করায় ইউক্রেন চরমভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে ভুগছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এটিই তাদের একমাত্র কার্যকর অস্ত্র। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রের সহ-উৎপাদনের জন্য একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল এবং এরপর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিশিনা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ইউক্রেনের সাথে সহযোগিতা গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লকহিডের নির্বাহী কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করেছেন এবং কোম্পানিটি শীঘ্রই ইউক্রেনে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।






























