দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গুঞ্জন চলছে, তার মধ্যেই আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান ইস্যু এবং প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশ নেবেন। কমিটির একজন সদস্য জানান, শনিবারের এই বৈঠকের এজেন্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই আলোচনায় আসবে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই জানিয়েছিলেন যে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই এ নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্রমতে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে ন্যস্ত করা হতে পারে। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রার্থী নির্ধারণের ভার শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর রাখাই বিচক্ষণ কাজ হবে। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, এমন একজনকে এই পদে দেখা যেতে পারে যিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা মোকাবিলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি, প্রবীণ আইনজীবী কিংবা রাজনীতির বাইরে থেকে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে চমক হিসেবে আনার গুঞ্জনও রয়েছে।
দলীয় নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় থাকলেও, তাকে মহাসচিব পদে রেখে রাজনীতি ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষে অনেকে মত দিচ্ছেন। এছাড়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. আবদুল মঈন খানকে স্পিকার করার আলোচনার পাশাপাশি, দলের প্রবীণ ও আস্থাভাজন নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রার্থী বাছাইয়ে তাড়াহুড়ো করা হবে না। সাংবিধানিক জ্ঞান, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।































