গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী। সোমবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং সেটেলমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী ওরিট স্ট্রক অবিলম্বে দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার এবং গাজায় এই বাহিনী প্রবেশের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার দাবি জানান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এই খবর প্রকাশ করেছে।
ওই দুই মন্ত্রীর দাবি, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তটি ‘ভুল তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছিল। তারা আরও দাবি করেন, অবরুদ্ধ এই উপত্যকার জন্য তৈরি করা ‘বোর্ড অব পিস রোডম্যাপ’ ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার ও গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করার প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অধীনে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের অনুমোদন দেয় ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা পরিচালনার জন্য যে চারটি সংস্থা গঠন করা হয়েছে, তার মধ্যে আইএসএফ অন্যতম। গত শুক্রবার ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপের নীতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি প্রকাশ করে, যার মধ্যে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক রূপরেখাও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, মন্ত্রিসভাকে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ার এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি ওই দুই মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন, আসলে কে বা কারা এই ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে। এক বিবৃতিতে লাপিদ বলেন, “যেহেতু এটি একটি কূটনৈতিক বিষয় যা মার্কিনদের সাথে চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাই আপনারা কি সুনির্দিষ্টভাবে জানাবেন যে মন্ত্রিসভায় কে আপনাদের এই ভুল তথ্য দিয়েছে? মন্ত্রিসভায় কি এমন কেউ আছেন যিনি আপনাদের চেয়ে ঊর্ধ্বতন, মার্কিনদের সাথে আলোচনা পরিচালনা করেছেন এবং তিনিই আপনাদের ভুল তথ্য দিয়েছেন? কার কথা বলছেন তা স্পষ্ট না করে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা এমন গুরুতর অভিযোগ তুলতে পারেন না।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। ইসরায়েলি হামলায় গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল উপত্যকাজুড়ে তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১,২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,১১০ জন আহত হয়েছেন।




























