নাহিদ ইসলাম বলেন, যেদিন রংপুরে আবু সাঈদ শহীদ হলেন, অর্থাৎ ১৬ জুলাই ২০২৪, সেদিনই আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেদিনই আন্দোলনের মোড় পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। ডিবি কার্যালয়ে বন্দী থাকার সময় আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে সেখান থেকে বের হওয়া, কারণ আমরা জানতাম সব নেতাকে একে একে গ্রেপ্তার করা হলে আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়বে। ডিবি কর্মকর্তারা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখানোর কথা বলে আমাদের কাছ থেকে যে ভিডিও স্টেটমেন্ট নিয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ কৌশলগত। আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার কোনো বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না। শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি অনেকেই করেছিলেন, কিন্তু আমরা মনে করতাম শুধু একজন ব্যক্তির পতনই রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে যে ফ্যাসিবাদ প্রকট আকার ধারণ করেছিল, তার বিলোপ প্রয়োজন ছিল। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিটিই ছিল আমাদের মূল আকাঙ্ক্ষা।
তৎকালীন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ছিল আমাদের শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গিয়ে এটা দেখানো যে একটা সমঝোতা হয়েছে। তারা সেই ১৭-১৮ জুলাই থেকেই এই চেষ্টা করছিল, যাতে আমরা সরকারের সঙ্গে বসি, আলোচনা করি এবং আন্দোলন স্থগিত করি। একটা পর্যায়ে আমরা আন্দোলন স্টপ করতে রাজি হই, কিন্তু ভেতরেও আমরা শেষ দুই দিন অনশন করেছি। ডিবি কার্যালয়ের ভেতরের বিষয়টা ছিল কৌশলগত—এটা বলে আমরা ডিবি থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করি। ওই সময় আসলে অত আলোচনার সুযোগ ছিল না। বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কখনো আলোচনা হয়েছে, কখনো হয়নি; কখনো আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আবার কখনো আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আবু বাকের মজুমদার বা মাহফুজ আলম সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূল বিষয় হচ্ছে, যদি আমরা আরও দেরি করি, তাহলে হয়তো আমরা মোমেন্টামটা মিস করব এবং সংগঠিত থাকতে পারব না।
৪ আগস্ট শাহবাগে আমি বলেছিলাম, যদি অস্ত্র তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটাও আমরা নেব। সেনাবাহিনীর ভূমিকাটা শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ৫ আগস্ট রাস্তায় বের হওয়ার আগে আমরা জানতাম না সেদিন সেনাবাহিনী কী ভূমিকা নেবে। বার্তা এটাই ছিল—আমরা অহিংস অসহযোগ আন্দোলন করছি। ৪ আগস্ট রাতে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বাসায় ছিলাম। ৫ আগস্ট সকাল থেকে আমরা খোঁজ নিচ্ছিলাম দেশের কী পরিস্থিতি। ধানমন্ডি এলাকার ওই বাসা থেকে আমি কয়েকবার বের হতে চাইলেও আমাদের সহযোদ্ধারা আমাকে বের হতে দেয়নি। যখন শাহবাগ ক্লিয়ার হয়েছে, সেনাবাহিনী নামার পর আমরা ফার্মগেট অভিমুখে মিছিল শুরু করি। বাংলামোটর পার হওয়ার সময় বেলা দেড়টা বা দুইটা নাগাদ শেখ হাসিনার পলায়নের খবর পাই।
৬ আগস্ট কর্মসূচি দেওয়ার পেছনে আমাদের চিন্তাটা ছিল মানুষকে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য একটু সময় দেওয়া। ৫ আগস্ট আমরা শ্রমিক ও নারী সমাবেশ ঘোষণা করেছিলাম। পরে ৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারির ঘোষণা এল এবং আমরা খবর পেলাম মোবাইল ইন্টারনেটসহ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে, ২০-২১ জুলাই যে রকম ব্ল্যাকআউট করা হয়েছিল। ফলে এটিকে এগিয়ে এনে সিদ্ধান্ত হলো আমাদের ফাইনাল কল ৫ আগস্টেই হওয়া উচিত; ওই দিনই যা হওয়ার হবে। ৬ আগস্ট দিলে সরকারও হয়তো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেয়ে যাবে। আমাদের কাছে অধ্যাপক ইউনূসকেই তখন সার্বিকভাবে সেরা মনে হয়েছে এবং সব পক্ষ সে সময় তাঁকে সমর্থন করেছে। ভিন্ন কোনো নামও কেউ দিতে পারেনি।
৫ আগস্ট যখন দেশে সরকার নেই, তখন প্রচুর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছিল। একধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যেহেতু জাতীয় সরকার হলো না, তখন আমাদের মনে হলো অন্তর্বর্তী সরকারকে একটা রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভূমিকা রাখা জরুরি। সেনাপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগেই বসেছিলেন। সেখানে আমরা না থাকায় কার্যকর কিছু হয়নি। আমরা তাঁদের সঙ্গে বৈঠকটা করি মূলত সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে। তাঁরা চাইছিলেন প্রথাগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসের যেহেতু একেবারে আওয়ামীবিরোধী একটা অবস্থান ছিল, আমরা পরে তাঁদের কনভিন্স করি। অধ্যাপক ইউনূস এলে দেশের পরিস্থিতি কীভাবে ভালো হবে, দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার হবে—সেগুলো আমরা তুলে ধরি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। উপদেষ্টার যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়। ওখানেই উপদেষ্টার তালিকাটা চূড়ান্ত হয়। সেই আলোচনায় কয়েকজনের নাম বাদ পড়ে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো আলোচনা করিনি, অন্তত আমি করিনি। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর অভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। যেকোনো জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা বিএনপিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই রেসপন্স সব সময় আশানুরূপ ছিল না। শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত তারা একমত ছিল, পরবর্তী কোনো দাবির সঙ্গে একমত ছিল না।
যতটুকুই পরিবর্তনের কথা বলা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারকে জবাবদিহি করা যাচ্ছে, সেটা সম্ভব হয়েছিল ৩ আগস্ট ওই কথাটা (ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও নতুন বন্দোবস্ত) বলার কারণে। আমরা চাইলাম জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য, পেলাম দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, স্থানীয় সরকারসহ সব ক্ষমতা আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে। রাষ্ট্রপতিও এখন নিয়োগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই আসলে একটা নতুন ব্যবস্থার সূত্রপাত করা সম্ভব হতো। এটা করা হয় আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই। আমরা জাতীয় সরকার, সংবিধান সংস্কার, বিচার, দেশের পরিবর্তন—এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। তারা (বিএনপি) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল।
৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল এসেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বা বিভিন্ন বিষয়ে কিছু বার্তা দিলেন। আসলে ওই সময়ের অনেক কিছুই মনে রাখা কঠিন। কার মাথায় প্রথম এসেছিল, এটা এখন সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। অনেকেই দাবি করেন। তবে ৩ আগস্টের পরই অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে কয়েক মিনিট। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছি, দেশের এই পরিস্থিতি, আমরা চাইছি আপনি দেশের হাল ধরুন, এই মুহূর্তে দেশে আপনার বিকল্প নেই। তিনি রাজি হওয়ার পর আমরা সব পক্ষকে কনভিন্স করি।
আমরা যখন ক্যান্টনমেন্টে যাই, তখন অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করি। আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি সরকার যারা জনগণের ম্যান্ডেট ধারণ করবে। রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করেছেন তারা হয়তো সরকার গঠন করতে পারবেন, কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধিরা না থাকলে এই অন্তর্বর্তী সরকারের টিকে থাকা কষ্ট হতো। কারণ, জনগণের ম্যান্ডেট ছিল আমাদের আন্দোলনের ওপর। আমরা সেই ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি।
৫ আগস্টের সেই দিনটিতে যখন আমরা সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিলাম, তখন একদিকে যেমন বিজয় উদ্যাপনের মুহূর্ত ছিল, অন্যদিকে দায়িত্বের পাহাড় ছিল। তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হওয়ার বিষয়টি ছিল সৌজন্যমূলক। তিনি আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় এত সিরিয়াস আলোচনা হয়নি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত একটি সরকার গঠন করা যাতে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আমরা চেয়েছিলাম একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার, যেখানে সব মতের মানুষের প্রতিফলন থাকবে।
উপদেষ্টা পরিষদের পুরো দায়িত্বটা ছিল লিয়াজোঁ কমিটির। অনেক কিছুই আমার মনে নেই। কিন্তু এটা মনে আছে যে বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূস আসার পর আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। ওই সময়টা ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাকর। আমরা জানতাম, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা কোনো ভুল করতে চাইনি। সেই সময়কার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া।
পরিশেষে, আমরা মনে করি এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম, তা বাস্তবায়নের জন্য এখনো অনেক পথ বাকি। অন্তর্বর্তী সরকার সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ছাত্র প্রতিনিধিরা সব সময় জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা সফল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা আশা করি, দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা আমরা ধরে রাখতে পারব।
আমাদের মনে হয়েছে, যে কারণে বাংলাদেশ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছাল, তার সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই একটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
এসব বিবেচনাতেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ একদিন এগিয়ে আনা হয়।
যদি আজ (৫ আগস্ট, ২০২৪) আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়, যদি গণহত্যা করা হয়, তাহলে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে যদি অস্ত্র তুলে নেওয়ারও প্রয়োজন হয়, আমরা সশস্ত্র আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি, আপনারা প্রতিহত করবেন।
বাসা থেকে শাহবাগে আসি দুপুর ১২টার দিকে।
কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে খবরটা পাই।
অনেক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর আসার পরও গণভবন বা সংসদ ভবন পর্যন্ত গিয়ে নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা ফাঁদও হতে পারে।
এ জন্য এখনই মাঠ ছেড়ে দেওয়া বা আনন্দ উদ্যাপন করা যাবে না।
পরের দিন ক্যান্টনমেন্টে ডাকা হলেও আমরা যাইনি।
তিনি (তারেক রহমান) আমাদের কংগ্র্যাচুলেট (ধন্যবাদ) করেছেন, আমরাও তাঁকে বলেছি—আপনি দেশে আসুন, সবাই মিলে দেশটা গড়ি।
আসিফ মাহমুদও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
প্রোপাগান্ডার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে একটা প্যানিক (ভীতি) ছড়িয়ে গিয়েছিল।
তাদের নানা স্বার্থ বা উদ্দেশ্য ছিল।
ওই সময় এই বার্তাটা যাওয়া খুব জরুরি ছিল যে সরকারটা কার হাতে যাচ্ছে বা কীভাবে আমরা ভাবছি।
এ কারণেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দিই।
৮ আগস্ট সকালে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটা বৈঠক করি।
যতজন সমন্বয়ককে পাওয়া গেছে, তাঁদের সঙ্গে সেখানে কথা বলি।
এর ১৫-২০ দিন পরে মাহফুজ আলম সরকারে যুক্ত হলেন।
সেগুলো নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা হয়, ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খানদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
তাঁকে আমরা সবার ফোন নম্বর, যাঁর যতটুকু ছিল, দিলাম।
বাংলাদেশের ইতিহাসে, পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকমভাবে সরকার গঠন হয়েছে কি না…(হাসি)।
বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, যেমন বিএনপির ছাত্রদল, জামায়াতের ছাত্রশিবিরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সংস্কার বা পরিবর্তনের যে বিষয়গুলো, সেগুলো বেশির ভাগ সময় তারা রিজেক্ট (বাতিল) করে দিয়েছে।
ঘোষণাপত্রের (জুলাই ঘোষণাপত্র) তারা বিরোধিতা করেছে।
শেষমেশ গণভোট নিয়েও তারা প্রতারণা করেছে।
রাষ্ট্রকাঠামোর প্রশ্নে আমরা যেসব প্রস্তাব দিয়েছি, তার কোনোটাই মানা হয়নি।
তারপর পরবর্তী সরকার এসে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারত।
ট্রানজিশন করে যেতে পারাটা অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন।
নাহিদ ইসলাম: নিউ সেটেলমেন্টের (নতুন বন্দোবস্ত) জন্য আমরা চেয়েছিলাম কনস্টিটিউশনাল চেঞ্জ (সাংবিধানিক পরিবর্তন) অথবা পুনর্লিখন।
সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাঠামোটা পরিবর্তন করে অর্থনৈতিক সংস্কারের জায়গায় যাওয়া যেত।
নাহিদ ইসলাম: এই জোট হওয়ার কারণে একটা রাজনৈতিক মেরুকরণ হয়েছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
এই যে গণভোটের পক্ষে এত ভোট পড়েছে, সেখানে এই জোটের একটা ভূমিকা আছে।
ইতিমধ্যে সে ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
এখনো বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের একটা রেশ থেকে যাওয়ায় আমরা কিছুটা গণতন্ত্র দেখতে পাচ্ছি; কিন্তু এটা সাসটেইনেবল (টেকসই) নয়।
দ্বিতীয়ত, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী শ্রেণি, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ—তারাও পরিবর্তন চায়নি।
সেই নেতৃত্বের জায়গায় এখন বিএনপি এসে বসেছে।
অভ্যুত্থানে নানা পক্ষ নেমেছিল, একেকজন অভ্যুত্থানকে একেকভাবে দেখে।
বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, বামপন্থীদের বিভিন্ন অংশ, শিক্ষার্থী—সবাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোনো না কোনোভাবে সুবিধা নিয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো





























