চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আলাদা অঙ্গরাজ্যে একই দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১০ সালে ওহাইও, টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় একই দিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
তালিকায় থাকা তিনটি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে আলাবামায় বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে জেরেমি উইলিয়ামসকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তিনি ২০২১ সালে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। একই দিনে ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, যিনি ২০০৩ সালে তার স্ত্রী হত্যার দায়ে দণ্ডিত। এছাড়া টেনেসি অঙ্গরাজ্যে অ্যান্থনি হাইন্সকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, যাকে ১৯৮৫ সালে চার সন্তানের জননী এক নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের এই ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা কেবল কাকতালীয়। ইউএসএ টুডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ শতাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছিলেন নারী বা শিশু।
জেরেমি উইলিয়ামস ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়ার কলম্বাস সিটি থেকে ৫ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে অপহরণ করে। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, কামারির মা ক্রিস্টি সিপল ড্রাগের টাকার বিনিময়ে উইলিয়ামসকে তার মেয়েকে যৌন নির্যাতনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। উইলিয়ামস শিশুটিকে মাদক সেবন করানো, ধর্ষণ ও হত্যার পরও যৌন নির্যাতন চালায়। জেরেমি উইলিয়ামস তার বিচারের সময় কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এবং কোনো আপিল না করার নির্দেশ দিয়েছিল, যার ফলে অপরাধের পাঁচ বছরের মধ্যেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ওকলাহোমার কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ ২০০৩ সালে তার স্ত্রী অলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত। ঘটনার রাতে স্ত্রী ও তার গর্ভবতী মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। ৭৭ বছর বয়সী কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ গত মাসে ক্ষমা প্রার্থনার শুনানিতে নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি কোনো দয়া পাওয়ার যোগ্য নন।
টেনেসি অঙ্গরাজ্যে অ্যান্থনি হাইন্সকে ১৯৮৫ সালে ক্যাথরিন জিন জেনকিন্স নামক এক নারীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাইন্স হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। টেনেসির গভর্নর বিল লি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। হাইন্সের আইনজীবী কিট থমাস এটিকে একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ অতীতে ব্যর্থ হওয়া একটি মেডিকেল প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।




























