প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রার্থী হওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন রিজভী। দলের পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। দলের চেয়ারম্যান সবার মতামত নিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন। এছাড়া মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি জানান, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে। উল্লেখ্য, ওই বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, চিফ হুইপ, হুইপ এবং যুগ্ম মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের আজই শেষ দিন। আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯১, ২০০১ ও ২০২৬ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা ক্যাডারের) এর সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি।
দলের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব দেয়া আছে।
সূত্র: মানবজমিন































