চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বাইরের গ্রাম এলাকায় দিনে-রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এই বিদ্যুৎ সংকটের ফলে জনজীবন প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলায় বর্তমানে ৭০০-এর অধিক চালকল রয়েছে। এছাড়া খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, প্লাস্টিক, কৃষি যন্ত্রাংশ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অনেক ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, কারণ অনেক মালিক ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। সুলতানপুর এলাকার ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং একবার গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা থাকে না। ডিজেল খরচ কমাতে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যা লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিক পল্লীর নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে তাদের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরাও এই সংকটের কবলে পড়েছেন। নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক জানান, আগস্টের শুরু থেকেই লোডশেডিং বেড়েছে। ধামইরহাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, জেনারেটর ব্যবহারের জন্য আগে ৫০০ টাকা চুক্তি থাকলেও এখন পরিস্থিতির কারণে তা ১০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
কৃষিখাতেও এর প্রভাব পড়েছে আমন মৌসুমের সেচ কার্যক্রমে। নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বিএমডিএ গভীর নলকূপের অপারেটর ফিরোজ হোসেন জানান, দিনে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় সেচ দিতে হচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় যে জমিতে সেচ দিতে ২ ঘণ্টা লাগত, এখন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁয় পিক ও অব-পিক আওয়ারে গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া জানান, তাদের অধীনে ৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত আবেদন জানানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





























