দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইবার-অপটিক কেবল স্থাপন, স্মার্ট-সিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি, ৫জি নেটওয়ার্ক সরবরাহ এবং এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ অনুদান দেওয়ার মতো কাজ করেছে। ওয়াশিংটনের অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি বেইজিংয়ের ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’-এর মাধ্যমে প্রযুক্তি নয়, বরং কর্তৃত্ববাদ রপ্তানির একটি উদাহরণ। তবে এই দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বললে একটি ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
ইন্দোনেশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জেনেভায় তৈরি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করে। ফিলিপাইন তাদের ডেটা প্রাইভেসি আইন ইউরোপীয় নিয়মের আদলে তৈরি করেছে এবং মালয়েশিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত নীতিমালার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ, এই দেশগুলোতে চীনা হার্ডওয়্যার ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হলেও চীনা নিয়মগুলো সেভাবে শিকড় গাড়তে পারেনি।
বেইজিং ডিজিটাল অবকাঠামোর অনেক চুক্তি জিতলেও ডিজিটাল শাসনের ক্ষেত্রে খুব একটা এগোতে পারেনি। অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বেইজিংয়ের ‘সাইবার সার্বভৌমত্ব’ ও কেন্দ্রীয় ডেটা নিয়ন্ত্রণের মডেলের জন্য উর্বর ক্ষেত্র হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এই দেশগুলো চীনের প্রযুক্তি গ্রহণ করলেও তাদের নিজস্ব নিয়মকানুন তৈরি করছে। তারা ইউরোপীয় রেগুলেশন, জাতিসংঘের নিয়ম এবং নিজস্ব রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটাচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীনা প্রভাব প্রায় অনুপস্থিত। মালয়েশিয়া জাতিসংঘের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করে এবং কানাডীয় বা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করছে। ফিলিপাইনের ডেটা প্রাইভেসি অ্যাক্ট ইউরোপীয় জিডিপিআর মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মূলত, এই দেশগুলোর ব্যাংক, টেলিকম ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মানদণ্ডে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে চীনের প্রভাব বিস্তার করা কঠিন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বেইজিংয়ের শাসন মডেল অনুসরণের পরিবর্তে নিজ নিজ দেশের মূল্যবোধ ও কৌশলগত অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল নীতিতে ‘পানচাশীলা’ দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়। মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও একইভাবে বিদেশি প্রযুক্তিকে স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আসিয়ান (ASEAN) একটি ফিল্টার হিসেবে কাজ করছে, যা বাইরের মডেল ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
পরিশেষে, সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে যেখানে নিয়মগুলো আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে পশ্চিমা মানদণ্ডই জয়ী হয়েছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো পশ্চিমা ও বহুপাক্ষিক উৎসের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল শাসনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের মডেল এখনো এই অঞ্চলে সফল হতে পারেনি।



























