পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারঝড়ে প্রাণ হারানো ১০ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী দলের সর্বশেষ নিখোঁজ সদস্য, মার্কিন নাগরিক ম্যালরি গেইসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর গত শুক্রবার স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল তাঁর অবশিষ্টাংশ খুঁজে পায়। এর মাধ্যমে গত ৩১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের অবসান ঘটল।
আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের সভাপতি ইরফান আরশাদ খান জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল ম্যালরি গেইসের মরদেহটি খুঁজে বের করে। পাকিস্তানের কোনো ৮ হাজার মিটার (২৬,২৪৭ ফুট) উচ্চতার শৃঙ্গে আরোহণের ক্ষেত্রে এটিই ছিল ম্যালরির প্রথম প্রচেষ্টা। ৩৯ বছর বয়সী ম্যালরি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সান আন্তোনিও শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ম্যালরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পাইলেটস স্টুডিও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে লিখেছিলেন, তিনি অজানার উদ্দেশ্যে এক বিশাল বিশ্বাসের লাফ দিয়ে দেখতে চান জীবন কোন দিকে যায়। তাঁর মনে হয়েছিল এখানে প্রচুর হেলমেট, হারনেস এবং ক্র্যাম্পন (বরফে হাঁটার বিশেষ জুতো) জড়িত থাকবে। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর পরিবার এক বিবৃতিতে তাঁকে স্মরণ করে বলে, সে ছিল এক উজ্জ্বল আলো, যাকে তার পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে ভালোবাসত।
গত ৩১ জুলাই বিখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজার নেতৃত্বে একটি দল ব্রড পিক আরোহণ করতে গিয়ে তুষারঝড়ের কবলে পড়ে। এরপর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল, যা ম্যালরির মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে শেষ হলো।
অভিযানটির নেতৃত্ব দেওয়া নেপালে জন্ম নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা 'নিমস দাই' নামেও পরিচিত। ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যা নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত তথ্যচিত্র "১৪ পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল"-এ তুলে ধরা হয়েছিল। অবশ্য ২০২৩ সালে তাঁর এই রেকর্ডটি ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, উত্তর পাকিস্তানের পার্বত্য অঞ্চলে তুষারঝড়, বরফ ও পাথর ধস, অতিরিক্ত উচ্চতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে প্রায়শই পর্বতারোহণের সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।




























