মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তার সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম মার্কিন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপর। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই কঠোর পদক্ষেপের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি জানিয়েছেন, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের প্রায় ৮০ শতাংশই সম্পন্ন হয় দুবাইয়ের মাধ্যমে। ফলে ইরানের অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস এই শহরটি। তেহরান বর্তমানে চীনের কাছে তেল বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে চীন থেকে আমদানির মূল্য পরিশোধ করছে অথবা দুবাইয়ের বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে সেই অর্থ চীনের বাইরে সরিয়ে নিয়ে আমিরাতের মতো দেশে স্থানান্তর করছে।
মালেকি মনে করেন, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তেলের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় দুবাই-ভিত্তিক বেশ কিছু ভুয়া (শেল) কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের জন্য একটি ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘এইচএমএস ট্রেডিং এফজেডই’, যা ইরানের তেল বিক্রির অর্থ দেশে ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি।
সিবিএস নিউজের সাথে শেয়ার করা ৭ আগস্টের এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, ইরানের ‘শাহর ব্যাংক’, যা দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাথে সম্পর্কিত, দুবাই-ভিত্তিক দুটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করত। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ৭ আগস্টের বিবৃতিতে উল্লিখিত দুবাই-ভিত্তিক সব কোম্পানির সাথে মার্কিন নাগরিকদের ব্যবসা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং যেসব বিদেশি ব্যাংক জেনেশুনে এদের সাথে লেনদেন করবে, তাদের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আফরা আল হামেলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সাথে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সততা রক্ষায় আমিরাত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালীতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর আমিরাত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সাগরে পতিত হলেও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের ফলে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাত এখন বুঝতে পেরেছে যে তারা এই দ্বন্দ্বে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না, যার ফলে তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।



























