অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ঘাড় ও কনুইয়ের অস্বস্তি উপেক্ষা করে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম। ব্যাটিং করার সময় প্যাট কামিন্সের বলে আঘাত পাওয়ার পর কনুই থেকে শুরু হওয়া ব্যথা শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই তীব্র ব্যথাকে একপাশে সরিয়ে রেখে প্রথম দিনেই ৩৫ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার।
বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কামিন্সের বলে আঘাত পাওয়ার পর শরিফুলের বড় কোনো সমস্যা ছিল না, তবে বোলিং করার সময় তিনি বেশ অস্বস্তি বোধ করছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, "বড় কোনো সমস্যা ছিল না, তবে কনুই থেকে ব্যথা শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলেন।" তবে বল হাতে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর শরিফুল নিজে এই চোট নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে প্রথম টেস্টের একাদশে পরিবর্তনের গুঞ্জন থাকলেও টিম ম্যানেজমেন্ট ইবাদত হোসেনের জায়গায় শরিফুলের ওপরই আস্থা বজায় রাখে। মূলত বাতাস এবং বল সুইং করানোর ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই তাকে দলে রাখা হয়েছিল। শরিফুল সেই আস্থার প্রতিদান তো দিয়েছেনই, পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের মান বাঁচিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করেন।
ড্রেসিংরুম থেকে দুই দলের পেসারদের বোলিং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে স্টার্কের বোলিং থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন বলে জানান শরিফুল। তিনি বলেন, "বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলার সময় থেকেই আমি স্টার্কের বোলিং ও সুইং পছন্দ করতাম। এখন তার সাথে খেলছি ভেবেই আমি রোমাঞ্চিত ছিলাম। তার ওপর সেও ছয় উইকেট পেয়েছে, আমিও ছয় উইকেট পেয়েছি, তাই আমার আনন্দ আরও বেশি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পেসাররা সবসময় ভালো করে। স্টার্ক দীর্ঘদিন ধরে ভালো বল করছে। আমি দেখছিলাম কোন লেন্থে বল করলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।"
সঠিক লাইন ও লেন্থ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও কৃতিত্ব দেন শরিফুল। তিনি জানান, ব্যাটারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন কোন লেন্থের বল খেলা বেশি কঠিন। এছাড়া টেস্ট খেলতে আসার আগে প্রচুর ভিডিও দেখে প্রতিটি ব্যাটারের বিপক্ষে বোলিংয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাভিস হেডকে আউট করে শরিফুল তার উইকেট শিকারের অভিযান শুরু করেন। একটি ইয়র্কার দেওয়ার পর স্ক্র্যাম্বল-সিম ডেলিভারিতে হেডকে পরাস্ত করেন তিনি, যা ভেতরে ঢুকে ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগে। এরপর তিনি স্টিভেন স্মিথকে একটি চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড করেন। ফোর্থ-স্টাম্প লাইনে পিচ করে বলটি ডানহাতি স্মিথের রক্ষণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। শরিফুল বলেন, "আমরা যে প্রান্ত থেকে বল করছিলাম, সেখানে কিছুটা বাতাস ছিল। আমাদের উচ্চতার কারণে বল আরও বেশি সুইং করছিল। নতুন বলে দীর্ঘক্ষণ সুইং পাচ্ছিলাম এবং আমরা তার সুবিধাই নেওয়ার চেষ্টা করেছি।"
প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে ১১ রানের লিড নিয়েছে। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে এবং নাথান লায়ন তার সাথে অপরাজিত আছেন। তবে ম্যাচ এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে বিশ্বাস করেন শরিফুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ভালো হলে বাংলাদেশ লড়াইয়ে ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "ড্রেসিংরুমে একটিই বার্তা ছিল যে খেলা এখনো শেষ হয়নি। ওদের যেমন সুযোগ আছে, আমাদেরও আছে। কেবল প্রথম দিন শেষ হয়েছে। হ্যাঁ, আজ আমাদের ব্যাটিং পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ ছিল, তবে ওরাও নিজেদের কন্ডিশনে খেলছে। ইনশাল্লাহ, দেখা যাক দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারি।"



























