চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে ও সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বন্দরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত এবং নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানিয়েছে, বন্দরে কনটেইনার জট নিরসন, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের নিলাম প্রক্রিয়াটি দুটি আলাদা ই-অকশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, যার একটিতে ২৯০টি এবং অন্যটিতে ১৫২টি কনটেইনারের পণ্য রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর আওতায় ১০১টি লটে ২৯০টি কনটেইনারের পণ্য বিক্রি করা হবে। এনবিআরের স্থায়ী ও বিশেষ আদেশ অনুযায়ী আয়োজিত এই বিশেষ নিলামের পণ্যগুলোর কোনো সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) নির্ধারণ করা হয়নি। এই লটগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ (ওয়েস্টেজ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, সুতা, কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনার।
অন্যদিকে, সাধারণ ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর আওতায় ১০৯টি লটে ১৫২টি কনটেইনারের পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের তালিকায় রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর এবং লবণ। আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের অফিশিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারবেন।
নিলামে অংশ নেওয়ার আগে ক্রেতাদের জন্য পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। দুটি নিলামের পণ্যই ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে দেখার সুযোগ থাকবে। তবে বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্যগুলো ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন করা যাবে। দরপত্র দাখিলের প্রক্রিয়াটি শুরু হবে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে। এর মধ্যে ০৯/২০২৬ নম্বর ই-অকশনের দরপত্র ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং ১০/২০২৬ নম্বর বিশেষ ই-অকশনের দরপত্র ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।
অনলাইনে বিড করার সময় দরদাতাদের প্রস্তাবিত মূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্তাবলি মেনে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাস নিতে হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় ০৯/২০২৬ নম্বর ই-অকশনের দরপত্র বাক্স এবং ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ১০/২০২৬ নম্বর বিশেষ ই-অকশনের দরপত্র বাক্স খোলা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নিলাম কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




























