দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং সেখান থেকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার গুলশানের বাসভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, রাজস্ব আদায়, আইএমএফ ঋণ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামোসহ নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মতো সেবার মান উন্নয়নে অন্তত দুই বছর সময়ের প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সূচকের বর্তমান চিত্র
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার, যা ১৩ আগস্ট বেড়ে ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
- লেনদেনের ভারসাম্য: ২৬ জানুয়ারি ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থেকে ২৬ জুলাই ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
- নীতি সুদহার: ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
- বাজেট ঘাটতি: প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মোকাবিলায় কাজ চলছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর মিলিয়ে মোট ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরাতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ব্যাংক খাতে ১২ থেকে ১৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
সংস্কার ও চ্যালেঞ্জসমূহ
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কমিশন গঠন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তবে ব্যাংক রেজোল্যুশন বা পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার মতো প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত জটিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি
বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আইন-কানুনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শেয়ারবাজারের কমিশন পরিবর্তনের পর সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, চাইলেই কাল সকালে এগুলো নিরবচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। তবে দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি বাড়াতে এবং সরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইএমএফ ও বেতনকাঠামো
আইএমএফের ঋণের শর্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না। আগের কর্মসূচির কিছু শর্ত দেশের জন্য উপযোগী ছিল না বলে সরকার তা থেকে সরে এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর বিষয়ে তিনি জানান, রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় এবং বিশাল আমদানির চাপের কারণে একসঙ্গে সব সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে এবং ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর করার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজতর হবে। এছাড়া, বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতের নিয়োগগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রতিটি সংস্থায় যথাযথ নিরীক্ষা চালানো হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার ছয় মাসে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আরও নেওয়ার অপেক্ষায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থবছর জুলাইয়ে যখন শুরু হয়, তখন থাকে বর্ষাকাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা দেখেছি যে প্রস্তুতি নেওয়া হয় শুষ্ক মৌসুমে, কাজ শুরু হয় বর্ষাকালে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভালো একটা সময় চলে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রকল্প বাস্তবায়নটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এত দিন তো কাজ শুরু হতো পানির মধ্যে।
সূত্র: প্রথম আলো






























