থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে রাতভর সমন্বিত সহিংসতার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই এই নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হলেন তিনি।
শনিবার রাতে দক্ষিণের নারাথিওয়াত, পাত্তানি এবং ইয়ালা প্রদেশে মোট ৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন বন্যাদুর্গত নান প্রদেশ পরিদর্শনে যান। হামলায় কোনো সামরিক বা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি। এতে কেবল তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।
সহিংসতায় মূলত ছোট আকারের বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল পাত্তানি প্রদেশের একটি সেভেন-ইলেভেন (7-Eleven) সুপারশপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা দোকানটির বাইরে ঘোরাঘুরি করছে এবং ক্রেতা ও কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া নারাথিওয়াতে রেললাইনে বোমা হামলায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বরাবরের মতোই এই হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্তও করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে রয়েছে 'বারিসান রেভোলুসি নাসিওনাল মেলায়ু পাতানি' বা বিআরএন (BRN)। এটি ওই অঞ্চলের প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের এ ধরনের সমন্বিত হামলা চালানোর মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে। থাই সরকারের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর শান্তি আলোচনাও মাঝেমধ্যে চলে থাকে।
থাইল্যান্ডের বৌদ্ধপ্রধান সমাজে এই তিনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশই একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা। বিআরএন এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। এখানকার মুসলিম বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন এবং কয়েক দশক ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সক্রিয় রয়েছে। ২০০৪ সালে এই সহিংসতা তীব্র রূপ নেয় এবং সরকারের কঠোর দমনপীড়নের কারণে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পায়। পাত্তানিতে অবস্থিত প্রিন্স অব সংখলা ইউনিভার্সিটির থিঙ্ক ট্যাংক 'ডিপ সাউথ ওয়াচ'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ বছরে এই সহিংসতায় ৭,৮৩৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন。
এর আগে গত জুলাই মাসে নারাথিওয়াতে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ১০ জনের মতো হামলাকারী গুলি ও পাইপ বোমা হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আধাসামরিক সেনা নিহত এবং এক ১০ বছরের শিশুসহ ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক দন পাঠান জানান, মূলত থাই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই বিআরএন এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে।




























