আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বড় ধরনের অভিযানে পশ্চিম আফ্রিকার সংগঠিত সাইবার অপরাধ চক্রের ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্বের ২২টি দেশে এবং ছয়টি মহাদেশে চালানো এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন জ্যাকাল ৪’। মূলত রোমান্স স্ক্যাম এবং ভুয়া বিনিয়োগের ফাঁদ পেতে প্রতারণাকারীদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে ২৬৩ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ইন্টারপোল জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে অপরাধী চক্রগুলোর নতুন কিছু প্রবণতাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করে ‘সেক্সটরশন’ বা ব্ল্যাকমেইলিং করা, যেখানে মাত্র ১৪ বছর বয়সী শিশুরাও ভুক্তভোগী হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মূলত খতিয়ে দেখা হয়েছে কীভাবে এই অপরাধী দলগুলো অর্থ পাচার করে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইমেইল হ্যাকিংয়ের মতো আর্থিক জালিয়াতি চালায়।
এই চক্রগুলো সাধারণত ইংরেজিভাষী দেশগুলোর অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রতারণা করত। ইন্টারপোলের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম সেন্টারের পরিচালক তোমোনোবু কায়া এক বিবৃতিতে বলেন, "সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অর্থের লেনদেন অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা সংগঠিত অপরাধের মূল জায়গায় আঘাত করছি। এর ফলে অপরাধী চক্রগুলোর জন্য তাদের কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "অপারেশন জ্যাকাল ৪ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার শক্তি প্রমাণ করে।"
অভিযান চলাকালীন ইন্টারপোল বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অর্থ পাচার তদন্তের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তদন্তের অনেক বিষয় এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলে আর্জেন্টিনা, ইতালি, রোমানিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে রোমান্স ও বিনিয়োগ স্ক্যামের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের সাতটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করতে ইন্টারপোলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ২.৬৭ মিলিয়ন ডলার (১.৯৬ মিলিয়ন পাউন্ড) জব্দ করা হয়েছে এবং ২৫৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ইন্টারপোল জানিয়েছে, এই পশ্চিম আফ্রিকান নেটওয়ার্কগুলো সাইবার জালিয়াতির পাশাপাশি অন্যান্য গুরুতর ও সহিংস অপরাধেও জড়িত। ২০২২ সাল থেকে একাধিক ‘জ্যাকাল’ অভিযান চালানো হয়েছে, যার মধ্যে এটি অন্যতম। এর আগে ২০২৪ সালে ‘জ্যাকাল ৩’ অভিযানে ‘ব্ল্যাক এক্স’ এবং এর সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে জড়িত ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্ল্যাক এক্স হলো একটি গোপন অপরাধী নেটওয়ার্ক, যা বিশ্বজুড়ে মানব পাচার, পতিতাবৃত্তি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত। নাইজেরিয়া হলো এই চক্রের সদস্য সংগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। এই চক্রের অনেক সদস্যই উচ্চশিক্ষিত এবং তারা মূলত ছাত্রাবস্থায় এতে দীক্ষিত হয়।


























