নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির পার্বত্য উপত্যকাগুলোতে এই আকস্মিক বন্যার আঘাতের পর থেকে প্রায় ৩৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল জলস্রোত পাহাড়ের উপত্যকা দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাচ্ছে। এই বন্যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, সেতু এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে পানির হঠাৎ এই তীব্র বৃদ্ধির ফলে পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাও প্লাবিত হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের ভূমিধসের কারণে ভোতে কোশি নদীর গতিপথ আটকে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে, বন্যায় তাদের ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ ও সঞ্চালন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১২ জন ব্রিটিশ, ১৪২ জন ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশিয়ান, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকান, আটজন দক্ষিণ কোরিয়ান, একজন অস্ট্রেলিয়ান এবং একজন ডাচ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ১১১ জন নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের অধিকাংশই বিভিন্ন পর্যটন কোম্পানির মাধ্যমে ভ্রমণে এসেছিলেন। পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জানিয়েছেন, মেডিকেল টিম, স্কাউট এবং রেড ক্রসের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকাটির দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার অবতরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
























