যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া এবং তরুণ স্নাতকদের জন্য চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ার ফলে অনেক তরুণ এখন বিদেশে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পথ বেছে নিচ্ছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের সরকারি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যা বিদেশি তরুণদের জন্য এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
ফ্লোরিডার ২৫ বছর বয়সী আরিয়ানা মেরি এক বছর আগেও তার প্রথম চাকরি নিয়ে হতাশ ছিলেন। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের ঘাটতির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু শহরে সরকারি স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সেখানে তিনি কেবল পড়ানোর ওপর মনোযোগ দিতে পারছেন এবং ভালো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, যা তাকে সঞ্চয় ও ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। মেরি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশাটি অবমূল্যায়িত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষার্থীরা তাকে অনেক শ্রদ্ধা করে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই কর্মসূচিতে কলেজ ডিগ্রি এবং টিইএফএল (TEFL) সার্টিফিকেটধারী স্থানীয় পাবলিক স্কুলে নিয়োগ পাচ্ছেন। এর আওতায় থাকা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে আবাসন, বিমান ভাড়া ফেরত, স্বাস্থ্যসেবা এবং মাসিক প্রায় ১,৪০০ ডলারের বেতন। জাপান ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলোও একইভাবে পূর্ণকালীন ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগে বিনিয়োগ করছে।
কেবল আমেরিকানরাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার জুইওয়ে দ্লামিনি, ২৮, একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন শহরে শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। নিজের দেশে যুব বেকারত্বের হার প্রায় ৭০ শতাংশ হওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন, কিন্তু এখন কোরিয়ায় কাজ করে তিনি তার ঋণ পরিশোধ করছেন এবং মাস্টার্স ডিগ্রির পরিকল্পনা করছেন।
টিইএফএল ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বাজার ৯৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ২০ লাখের বেশি টিইএফএল চাকরির সুযোগ রয়েছে। ২০৩৪ সাল নাগাদ এই বাজার ১৮১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল। অনেক তরুণ শুরুতে এক বছরের জন্য এলেও পরে কাজের পরিবেশ ও সুযোগের কারণে দীর্ঘ সময় থেকে যাচ্ছেন। এটি আমেরিকানদের মধ্যে অভিবাসনের একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে; গত বছর গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ মার্কিন নারী সুযোগ পেলে বিদেশে পাড়ি জমাতে আগ্রহী।































