দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু উপলক্ষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গাড়িচালকদের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এই উদ্যোগগুলো আরটিএ-এর বার্ষিক ট্রাফিক সচেতনতা পরিকল্পনার অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো স্কুল এলাকায় নিরাপদ সড়ক আচরণ নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ট্রাফিক নিরাপত্তার নীতিগুলো সুদৃঢ় করা। এই কার্যক্রমগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত ‘ট্রাফিক সেফটি ফর স্কুল স্টুডেন্টস’ বা স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রচারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব ও আরটিএ-এর লক্ষ্য
আরটিএ-এর ট্রাফিক অ্যান্ড রোডস এজেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন আল বান্না জানিয়েছেন যে, দুবাইয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তাদের বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী বিভিন্ন বার্তা ও কর্মসূচি সাজানো হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সড়ক ব্যবহারকারী হয়ে উঠতে পারে।
- স্কুল এলাকার আশেপাশে গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা।
- শিক্ষার্থীদের নামানো ও ওঠানোর জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো ব্যবহার করা।
- পথচারী পারাপার এবং স্কুল বাসের আশেপাশে বিশেষ নজর রাখা।
অভিভাবকদের জন্য জরিপ ও প্রাপ্ত তথ্য
২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে আরটিএ ২০ হাজারেরও বেশি অভিভাবকের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছিল। এতে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ অভিভাবক স্কুল এলাকায় নির্ধারিত ড্রপ-অফ ও পিক-আপ জোন ব্যবহার করেন এবং ৭১ শতাংশ অভিভাবক শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুল বাসে যাতায়াত করে, ৪৭ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়িতে এবং বাকিরা হেঁটে বা গণপরিবহন ও অন্যান্য উপায়ে স্কুলে যাতায়াত করে।
দুর্ঘটনামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা
আল বান্না উল্লেখ করেন যে, আরটিএ-এর সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সাথে প্রকৌশলগত উদ্যোগের ফলে ২০১০ সাল থেকে দুবাইয়ের স্কুলগুলোতে কোনো প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেনি। তিনি শিশুদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আচরণের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দেন। অভিভাবকদের তিনি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সিট বেল্ট ব্যবহার করা, পথচারী পারাপার ও গতিসীমা সম্মান করা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
সচেতনতামূলক কর্মসূচির বৈচিত্র্য
নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে আরটিএ বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের জন্য বিশেষ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করছে
- কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হ্যালো, মাই স্কুল’ কর্মসূচি।
- শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গোল্ডেন রুলস ফর জেনারেশনস সেফটি’ বা প্রজন্মের নিরাপত্তার সোনালী নিয়মাবলী।
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভার্চুয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স’ কর্মসূচি।
এই কর্মসূচিগুলো সহজ ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ পদ্ধতির মাধ্যমে ট্রাফিক নিরাপত্তার ধারণা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ রাস্তা পারাপার, পথচারী পারাপারের সঠিক ব্যবহার, সিট বেল্ট পরা, গাড়ি বা বাসে ওঠার ও নামার সঠিক নিয়ম এবং বাসের চারপাশের বিপদজনক এলাকা এড়িয়ে চলা।
প্রকৌশলগত উন্নয়ন ও অভিভাবক নির্দেশিকা
সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি আরটিএ স্কুলগুলোর আশেপাশে ট্রাফিক ও প্রকৌশলগত উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ উন্নত করা, পথচারী পারাপার তৈরি, ট্রাফিক শান্তকরণ ব্যবস্থা এবং নতুন রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন। অভিভাবকদের প্রতি আরটিএ-এর পরামর্শ হলো, তারা যেন আগে থেকেই স্কুলের যাতায়াতের পরিকল্পনা করেন এবং তাড়াহুড়ো এড়াতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখেন। এছাড়া রাস্তার মাঝখানে বা অনির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থী নামানো, স্কুলের সামনে ডাবল পার্কিং করা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা অন্যান্য বিভ্রান্তিকর কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ































