ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে সোমবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ডিএলএস (ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) পদ্ধতিতে ৯ রানে হারিয়ে নিজেদের অপরাজিত যাত্রা বজায় রেখেছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ১৬ ওভারে ১৮৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়ারিয়র্স। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ নবীর বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি নাইট রাইডার্স।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। প্রথম ওভারে গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে মাত্র ১ রান দেন আকিল হোসেন। সুনীল নারিনও দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে চাপ বাড়িয়ে দেন। শাই হোপ দুটি ছক্কা মেরে চাপ কাটানোর চেষ্টা করলেও চতুর্থ ওভারে লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা ৯০ মিনিটের বেশি সময় বন্ধ থাকে।
বৃষ্টি শেষে খেলা পুনরায় শুরু হলে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন শিমরন হেটমায়ার। সপ্তম ওভারে জিদ গুলির বলে টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি এবং পরের ওভারে কুমারার বল থেকে দুটি চার ও একটি ছক্কা আদায় করেন। অন্যপ্রান্তে ২১ বলে ১৩ রান করে ধুঁকতে থাকা ম্যাথু নান্দু নবম ওভারের শেষে 'রিটায়ার্ড আউট' হয়ে ফিরে যান। হেটমায়ার মাত্র ২৭ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন এবং ত্রয়োদশ ওভারে কুমারার বল থেকে একাই ৩০ রান তোলেন। রোমারিও শেফার্ডও ১৫তম ওভারে ডোমিনিক ড্রেকসের ওপর চড়াও হয়ে ২৭ রান আদায় করেন। শেষ ওভারে ছক্কা মেরে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হেটমায়ার। ১৬ ওভার শেষে গায়ানার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৮৫ রান। হেটমায়ার ১১১ এবং শেফার্ড ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
বৃষ্টি আইনের কারণে ত্রিনবাগোর সামনে ১৬ ওভারে জয়ের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮২ রান। নিয়মিত অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডের চোটের কারণে অনুপস্থিতিতে খেলতে নামা নাইট রাইডার্স শুরুটা ভালোই করেছিল। পাওয়ারপ্লের ৪.৫ ওভারে ১ উইকেটে ৫২ রান তোলে তারা। সুনীল নারিন দ্রুত ফিরে গেলেও কলিন মুনরো ও নিকোলাস পুরান ৩৫ রানের দ্রুত জুটি গড়েন। তবে পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই বল হাতে আঘাত হানেন মোহাম্মদ নবী। মুনরোকে ফিরিয়ে তিনি ত্রিনবাগোর ব্যাটিং লাইনে ধস নামান। মাত্র ৩ ওভারের ব্যবধানে ৫২/১ থেকে ৬৮/৫ উইকেটে পরিণত হয় টিকেআর। নবী মাত্র ২০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
এই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অ্যালেক্স হেলস। প্রথমে আকিল হোসেনের সাথে ৪৩ রান এবং পরে ড্রেকসের সাথে ৩৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে ফিফটি করার পরপরই হেলস (৫৫) আউট হয়ে গেলে শেষ ২ ওভারে ত্রিনবাগোর প্রয়োজন দাঁড়ায় ৪০ রান। জশুয়া ডা সিলভা কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ব্যবধান কমালেও শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২৪ রান তুলতে ব্যর্থ হয় ত্রিনবাগো। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭২ রানে থামে তাদের ইনিংস।





























