জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে যে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে। গত ৪ আগস্ট জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছাকাছি বিস্ফোরকবাহী একটি ড্রোন পাওয়া যায়। ডিটোনেটর ত্রুটিপূর্ণ থাকায় সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, কাছাকাছি আরেকটি ড্রোন কার্গো বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। ঘটনার ১০ দিন পর বিমানবন্দরটির কাছে আরও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট জানান, এই আক্রমণ ইউরোপে রাশিয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত হাইব্রিড অভিযানেরই অংশ। গোয়েন্দা তথ্য এবং উদ্ধারকৃত যন্ত্রপাতির পরীক্ষা থেকে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল ঘোষণা করেন যে, বন শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া বার্লিনে অবস্থিত 'রাশিয়ান হাউস'-এর চুক্তিও বাতিল করা হচ্ছে, যা গোয়েন্দাবৃত্তি ও রুশ প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওয়েডফুল রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই নেচায়েভকে তলব করেছেন। এছাড়া রাশিয়ান নাগরিকদের জন্য প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত পুরোনো ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানির সম্পর্কের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জার্মানিকে ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য 'সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা' হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।
ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুট এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন জার্মানির এই পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এদিকে, জার্মানি তার নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যাতে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলা করা যায়। তবে চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের দলের এমপি রডরিখ কিসভেটার মনে করেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, যেখানে ডানপন্থী দল এএফডি প্রভাব বিস্তার করছে।




























