৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সারা সপ্তাহান্তে হ্রদ নিয়ে অভিযোগ আর ডোনাল্ড ডাকের মিম পোস্ট করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ২৩ বছর বয়সী পপ তারকা অলিভিয়া রদ্রিগো ব্যস্ত ছিলেন আমেরিকাকে কিছুটা মানবিক করে তোলার প্রচেষ্টায়। শনিবার তিনি 'ডেইজি চেইন ফিল্ডস' উৎসবের আয়োজন করেন। এই উৎসবের লক্ষ্য ছিল এমন সব অলাভজনক নারী সংগঠনকে তহবিল দেওয়া, যাদের অর্থায়ন ট্রাম্প প্রশাসন কমিয়ে দিয়েছে। উৎসবটি থেকে ৭.৪ মিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়, যা মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে মোট তহবিলের পরিমাণ ২০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেন।
রদ্রিগো কখনোই নিজেকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করেননি। ২০২২ সালে রো বনাম ওয়েড রায় উল্টে দেওয়ার পর, তখন ১৯ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী গ্ল্যাস্টনবারি মঞ্চে এর নিন্দা জানিয়েছিলেন। এছাড়া গাজা ইস্যুতেও তিনি সরব থেকেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, গাজার মা, বাবা ও শিশুরা অনাহারে ও পানিশূন্যতায় ভুগছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিজের উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'নল কালেক্টিভ'-এর পোশাক পরে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পপকাস্টে তিনি বলেছিলেন, সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা একজন শিল্পী হিসেবে তার দায়িত্বের অংশ।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম ধনী নারী সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট তার ক্যারিয়ারের শুরুতে অরাজনৈতিক অবস্থান নিলেও ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি নীরব ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ডকুমেন্টারি 'মিস আমেরিকানা'-তে বলেছিলেন তিনি ইতিহাসের সঠিক পক্ষে থাকতে চান। তবে ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিলেও ট্রাম্প ২.০ যুগে তার অবস্থান বেশ সতর্ক। ট্রাম্পের প্রচারণায় তার গান ব্যবহারের প্রতিবাদ অন্যান্য শিল্পীরা করলেও সুইফট দীর্ঘ সময় চুপ ছিলেন। সম্প্রতি তার গানগুলো ট্রাম্পের পোস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও, তিনি এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। এছাড়া গাজা বা আইসিই (ICE)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সমালোচকদের মতে, মুক্ত মতপ্রকাশ যখন হুমকির মুখে, তখন প্রভাবশালী তারকাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। অলিভিয়া রদ্রিগোর মতো সাহসী উদ্যোগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে বলেই অনেকে আশা করছেন।





























