যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ডে সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) হারানোর পর পায়ে ট্র্যাকিং ডিভাইস বা অ্যাঙ্কেল মনিটর পরা অবস্থায় এক হাইতিয়ান কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ, ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন।
মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম পিয়েরে দামাস বেল (২০)। তিনি রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্প্রিংফিল্ড নিউজ সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পায়ে অ্যাঙ্কেল মনিটর পরার কারণে সহপাঠীদের উপহাস ও খ্যাপানোর শিকার হয়ে পিয়েরে আত্মহত্যা করেন। সম্প্রতি আইনি সুরক্ষা হারানোর পর তার পায়ে এই ট্র্যাকিং ডিভাইসটি পরানো হয়েছিল।
এই মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেন, পিয়েরে এই দেশে বড় কিছু করার এবং অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের নিজেদের কাছেই জিজ্ঞাসা করা উচিত—এটি কি আসলেই ভালো কিছু? আমরা কি সত্যিই চাই যে এই ধরনের মানুষদের ধরে এনে দেশান্তরের মুখোমুখি করা হোক? আমরা কি চাই আমাদের নামে এসব করা হোক?’
ওহাইও থেকে হাইতিয়ান অভিবাসীদের গণহারে বিতাড়নের তীব্র বিরোধিতা করে ডিওয়াইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, স্প্রিংফিল্ডে বসবাসরত হাইতিয়ানদের টিপিএস বাতিল করা অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক—উভয় দিক থেকেই একটি বড় ভুল ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের মানুষ হিসেবে ভাবা দরকার, আমরা কি আমাদের নামে এই গণবিতাড়ন প্রক্রিয়া চালু রাখতে চাই? আমার মনে হয় না অধিকাংশ আমেরিকান এটি সমর্থন করেন।’
এর আগে গত আগস্ট মাসে স্প্রিংফিল্ডে বসবাসরত হাইতিয়ান বাসিন্দাদের সিনসিনাটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অফিসে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
ছেলের এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া নিয়ে পিয়েরের বাবা এক লিখিত বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমার ছেলের সাথে পশুর মতো আচরণ করেছে।’ এই মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলতে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় (ইটি) স্প্রিংফিল্ডে বেল পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।





























