২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর (2026) প্রকাশিত এই লেখায় জানা যায়, সপ্তাহ দুয়েক আগে ডিবির প্রধান কার্যালয়ে নিজের পুরোনো স্মৃতির খোঁজে গিয়েছিলেন লেখক। বিএনপি সরকারের কোনো নতুন মামলা কিংবা পুলিশের কোনো উপর মহলের নির্দেশ ছাড়াই তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সেখানে যান। ডিবির বর্তমান প্রধান শফিকুল ইসলাম তাকে পুরো কার্যালয় ঘুরে দেখতে সহযোগিতা করেন। বয়স হয়ে যাওয়ায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে নিজের সুখ-দুঃখের স্মৃতি জড়ানো পুরোনো জায়গাগুলো নতুন করে দেখার ইচ্ছা থেকেই তার এই সফর।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর, আমেরিকায় এক রাজ দৌহিত্রকে অপহরণের কথিত ষড়যন্ত্রের মামলায় লেখককে কাশিমপুর কারাগারে পাঁচ দিন কাটাতে হয়েছিল। তখনই তিনি সুযোগ পেলে ডিবি কার্যালয় পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় তিন সপ্তাহ তিনি ডিবিতে রিমান্ডে ছিলেন। বিমানবন্দরের উল্টো দিকের র্যাবের টিএফআই সেল দেখার ইচ্ছাও তার ছিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূসের আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের সময় ডাক না পাওয়ায় সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। লেখকের ‘জেল থেকে জেলে’ বইয়ের আয়নাঘরের বিবরণ বর্তমানে আইসিটি মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মিন্টো রোডের ডিবির গেটে প্রবেশের সময় লেখকের মনে পড়ে যায় ২০১০ সালের এক সকালের কথা, যখন তাকে ডিবি থেকে র্যাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেদিন ভোরে তার বৃদ্ধ মা ও তার এক শিক্ষয়িত্রী বান্ধবী ফুটপাতে ধুলোর মধ্যে বসে ডিবির গেটের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মা ও স্ত্রী পুলিশের গাড়ি অনুসরণ করে উত্তরা র্যাব-১ কার্যালয় পর্যন্ত গেলেও সেখানে তাদের সাথে অত্যন্ত উদ্ধত আচরণ করা হয় এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। লেখকের মা এখন পুরান ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে শায়িত আছেন এবং তার বান্ধবীও সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারা গেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই ক্ষুদ্র পরিবারের লড়াইয়ের গল্প আজকের ক্ষমতাসীনদের জানার আগ্রহ হয়নি বলে লেখক উল্লেখ করেন।
বিগত পাঁচ বছরের বন্দিজীবনে ডিবি কার্যালয়ে লেখকের কাটানো দিনগুলোর তুলনায় বর্তমানের হাজতখানার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আগে যেখানে ছোট ও বড় দুটি হাজত ছিল, এখন সচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ভিআইপি আসামিদের জন্য তিন নম্বর পৃথক হাজত তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কমোডের ব্যবস্থাও রয়েছে। আগের অসমান সিমেন্টের মেঝের বদলে এখন টাইলস বসানো হয়েছে। অতীতে নোংরা টয়লেট থেকে তেলাপোকা ও তেঁতুলে বিছা উঠে আসত, যা এখন আর নেই।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে। আগে লোহার শিকের বাইরে কেবল একটি বিকট শব্দকারী ব্রিটিশ আমলের ফ্যান ঘুরত। লেখক স্মরণ করেন, এক গ্রীষ্মের রমজান মাসে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ জন বন্দিকে এক হাজতে রাখা হয়েছিল, যার ফলে অনেককে টয়লেটের ভেতরেও শুতে হয়েছিল। তীব্র গরমে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে লেখক গরাদের কাছে নাক ঠেকিয়ে সাহরি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। রিমান্ডের দিনগুলোতে টয়লেটে যাওয়া এড়াতে তিনি প্রায় অনাহারে থাকতেন।
লেখক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের বন্দি মন্ত্রীদের জন্য যারা চোখের পানি ফেলছেন, তারা বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নীরব ছিলেন। ‘অধিকার’ ছাড়া কোনো মানবাধিকার বা নারী সংগঠন তার মা বা স্ত্রীর পাশে দাঁড়ায়নি; কেবল বিএনপির কয়েকজন নারী এমপি ও নেত্রী সে সময় সমবেদনা জানাতে মিন্টো রোডে গিয়েছিলেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের অমানিশা কেটেছে উল্লেখ করে লেখক বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু সুবিধাভোগী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিনদের আত্মত্যাগকে তুচ্ছ করে কথা বলছেন, যা চরম অকৃতজ্ঞতা।
ডিবি কার্যালয়ে তরুণ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে লেখক আশাবাদী হয়েছেন। বন্দিদের সাথে এখন মানবিক আচরণ করা হচ্ছে দেখে তিনি আনন্দিত। তিনি চান না যে বিগত সরকারের সহযোগীদের সাথেও আগের মতো অমানবিক আচরণ করা হোক। রাষ্ট্র যেন আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং ডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেন কোনো ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বা ভিন্ন মত দমনের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।
পরিশেষে লেখক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিগত আমলের ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে পুলিশ সদস্যদের মানবাধিকার ও মানসিক উন্নয়নের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বের ছয় মাসের হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়েছে এবং আগামী সাড়ে চার বছর জনগণকে মানবাধিকার পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরীক্ষা দিতে হবে।
আমাদের নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারি দলের বেশ কিছু রাতারাতি ভাগ্যবানদের ৩৬ জুলাইকে তুচ্ছ করে কথা বলতে দেখে তাদের অকৃতজ্ঞতার মাত্রায় বিস্মিত হই। তারা সব টকশোতে এমনভাবে কথা বলেন, যেন আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিন, আনাসদের আত্মত্যাগ খুব সাধারণ ঘটনা ছিল! পবিত্র কোরআন শরিফে আল্লাহতায়ালা মানুষ জাতটাকেই অকৃতজ্ঞ এ
আমার মনে হয়, আওয়ামী আমলে ভয়ানক শাসনের ‘ট্রমা’ থেকে মুক্তির জন্য রাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠানেই উপরোক্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করার কথা সরকার বিবেচনা করতে পারে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্বের ছয় মাসের দীর্ঘ হানিমুন সমাপ্ত হয়েছে। জনগণ এখন থেকে মেয়াদের বাকি সাড়ে ৪ বছর অব্যাহতভাবে সরকারের পরীক্ষা নেবে। সেই পরীক্ষার বিষয়গুলোর মধ্যে ন




























