বিশ্বের তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আলমি শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ডসহ বিশ্বের তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তিনি তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশির সাহেবের সন্তান। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর বাবা তাঁকে দ্বীনের কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন এবং পরবর্তীতে ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন। মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে যান এবং সেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ইলমি জীবন এবং দাওয়াতি কাজে অসামান্য অবদানের কারণে তিনি তাবলিগ জামাতের অঙ্গনে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে একজন প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেমকে হারালেন তাঁর দ্বীনি সাথী ও অনুসারীরা।































