গেরহার্ড ইরাসমাসের দুর্দান্ত লড়াকু ব্যাটিংকে ম্লান করে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনোসেন্ট কাইয়ার ঝড়ো অর্ধশতকের ওপর ভর করে এই জয় তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে, যা তাদের চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। নামিবিয়ার দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য জিম্বাবুয়ে ১১ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায়।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে নামিবিয়া। প্রথম দুই ওভারে লরেন স্টিনক্যাম্প দুটি বাউন্ডারি মেরে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও জিম্বাবুয়ের বোলাররা দ্রুতই তাদের চেপে ধরে। ব্র্যাড ইভান্সের বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন স্টিনক্যাম্প। এরপর ব্লেসিং মুজারাবানি শিকার করেন জ্যান ফ্রাইলিঙ্কের (৮) উইকেট। ষষ্ঠ ওভারে কুন্দাই মাতিগিমু আউট করেন জেন গ্রিনকে, যার ফলে ২৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে নামিবিয়া। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৫০ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা।
তবে চতুর্থ উইকেটে গেরহার্ড ইরাসমাস ও আলেকজান্ডার ভলশঙ্ক ৮৩ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। ভলশঙ্ক ২৯ রান করে আউট হলেও ইরাসমাস এক প্রান্ত ধরে রেখে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৩২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ইরাসমাস শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। শেষ ১০ ওভারে ১০৬ রান তুলে নামিবিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্র্যাড ইভান্স ২৯ রানে ২টি এবং কুন্দাই মাতিগিমু ৩১ রানে ২টি উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৫৯ রান তুলে দারুণ সূচনা করে জিম্বাবুয়ে। বেন কারান একটি চার মেরে দ্রুত বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্রায়ান বেনেট মাত্র ৩৪ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন। বেনেটকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন লফটি-ইটন। তবে কাইয়া তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং জ্যাক ব্রাসেলকে ছক্কা মেরে মাত্র ৩০ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন। ১০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯১ রান।
এরপর রুবেন ট্রাম্পেলম্যানকে টানা দুটি চার মেরে দলের স্কোর একশ পার করান কাইয়া। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ১৪তম ওভারে জ্যাক ব্রাসেলের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে ৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন কাইয়া, যেখানে ছিল ২টি ছক্কার মার। কাইয়ার বিদায়ের পর সিকান্দার রাজা (২৯) এবং ওয়েসলি মাধেভেরেকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে নামিবিয়া। ১৩২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও রায়ান বার্ল বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন। দুজনেই একটি করে ছক্কা মেরে ১৯তম ওভারেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নামিবিয়া ২০ ওভারে ১৫৬/৬ (গেরহার্ড ইরাসমাস ৮৮*, আলেকজান্ডার ভলশঙ্ক ২৯; ব্র্যাড ইভান্স ২-২৯, কুন্দাই মাতিগিমু ২-৩১) জিম্বাবুয়ের কাছে ১৮.১ ওভারে ১৫৯/৫ (ইনোসেন্ট কাইয়া ৭২, সিকান্দার রাজা ২৯; রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ২-৪১) ৫ উইকেটে পরাজিত।





























