র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই দিনে আরও দুটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন। বিল দুটিকে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
এসআরবি বিলটি সংসদে উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই বিলের বিরোধিতা করেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘরের মতো ঘটনার কারণে র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চরম বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে র্যাব বিলুপ্ত করা হবে। কিন্তু এখন র্যাবের মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান নতুন মোড়কে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি এই বিলটি বিলুপ্ত করার দাবি জানান এবং বিশেষায়িত কোনো ইউনিট করতে হলে আগে সংসদে বিশদ আলোচনার আহ্বান জানান।
বিরোধীদের এসব বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম যখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন, তখন কেন তিনি এই প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করেননি? দীর্ঘ ১৮ মাসে একবারও তাঁর এই বিষয়টি মনে হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর কুখ্যাত ছিলেন বলে কি আমরা পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করে দেব? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র্যাব নামক সংগঠনটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে পুলিশের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট অত্যন্ত প্রয়োজন।
এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। তবে নতুন একটি সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিলের মধ্যে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের তদন্ত ও বিচারের জন্য বিশেষ বডির বিধান রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল না। তিনি বিরোধী দলকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে সেখানে নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিলটি পর্যালোচনা করার জন্য সময়সীমা ২ কার্য দিবসের পরিবর্তে ৪ কার্য দিবস করার প্রস্তাব করা হলে বিরোধী দল তাতে সমর্থন দেয়।
প্রস্তাবিত এসআরবি বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। এই বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। বিলের ৪ ধারা অনুযায়ী, এই বিশেষায়িত ইউনিটটি পুলিশের আওতাধীন থাকবে এবং এর সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। এসআরবির প্রধান হিসেবে একজন মহাপরিচালক থাকবেন, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।
বিলের ১০ ধারায় এই ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানব পাচার, অপহরণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও থাকবে এই ইউনিটের ওপর। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশ অনুযায়ী এসআরবি যেকোনো অপরাধের তদন্ত করতে পারবে। ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তাদের প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের সুবিধার্থে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা থাকবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তাকে সাময়িকভাবে আটক করার বিধান রাখা হয়েছে, তবে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিত কারণ দেখাতে হবে। কোনো সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন পর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া সদস্যদের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনের জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র্যাব গঠন সংক্রান্ত আগের সব বিধান রহিত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের র্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ এসআরবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।
এসআরবি বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল





























