আসন্ন মাসগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’ অস্বাভাবিক মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো এক দানবীয় বা ‘সুপারসাইজড’ রূপ নিচ্ছে। বিজ্ঞান আমাদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পৃথিবী এখন এক অচেনা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের পানি ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছে।"
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের মহাসচিব এই সতর্কবার্তা দেন। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, চলমান এল নিনো পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষের দিকে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে।
এল নিনো সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও) চক্র মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। এই চক্রটি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এল নিনোর প্রভাবে মহাসাগরের তাপমাত্রা সাধারণের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, যার ধাক্কা হাজার হাজার মাইল দূরের এলাকাগুলোতেও অনুভূত হয়।
জাতিসংঘের মতে, এবারের এল নিনো এমন এক সময়ে সক্রিয় হচ্ছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এল নিনো শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বের মহাসাগরগুলোর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ফলে এবার অনেক বেশি উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে এল নিনোর প্রভাব শুরু হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি গ্রীষ্মে গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ থেকে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রধান সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেন, "ইতিমধ্যেই আমরা খরা ও বন্যার কারণে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় দেখতে পাচ্ছি। এল নিনো তীব্র হওয়ার সাথে সাথে এই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।"
আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বৃষ্টির ধরন বদলে যাবে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে তীব্র খরা পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং স্থানীয়দের আগাম প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ প্রচারণা শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হলো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা নিশ্চিত করা।
September 3, 2026 / 12:38 PM EDT / CBS News





























