৮৪ বছর বয়সে আবারো সংগীতের মূলধারায় ফিরে এসেছেন লোক-পপ কিংবদন্তি আর্ট গারফাঙ্কেল। দীর্ঘ দুই দশকের বিরতির পর তিনি আবারও মঞ্চে গাইছেন এবং অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে সফরে আসছেন। তিনি জানান, নিজের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দুটি বিষয় হলো ১৯৮৫ সালে স্ত্রী ক্যাথরিনের সাথে পরিচিত হওয়া এবং গান গাওয়া। বিশেষ করে কনসার্টের সেই মুহূর্তটি, যখন গান গাওয়াটা একদম অনায়াস ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। এক বন্ধুর পরামর্শে নিউ ইয়র্কের একটি আর্ট গ্যালারিতে ৬০ জন শ্রোতার সামনে গান ও গল্প বলার মাধ্যমে তার এই ফেরার যাত্রা শুরু হয়।
আর্ট গারফাঙ্কেল শুধু একজন গায়কই নন, তিনি একাধারে লেখক, অভিনেতা ও গণিতবিদ। তার ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পল সাইমন এবং সাইমন অ্যান্ড গারফাঙ্কেল জুটি, যারা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম বিক্রির রেকর্ড গড়েছেন। দ্য সাউন্ড অফ সাইলেন্স এবং ব্রিজ ওভার ট্রাবলড ওয়াটারের মতো কালজয়ী গানের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। যদিও ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো সফরে যাননি, তবে সম্প্রতি হোটেল বাথটাবে গান গাওয়ার সময় তিনি অনুভব করেছেন যে তার কণ্ঠ এখনো ষাটের দশকের মতোই সতেজ।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন রাখা গারফাঙ্কেল সম্প্রতি ইলেভেন ল্যাবসের একটি এআই প্রজেক্ট 'অথরশিপ'-এ কাজ করেছেন, যেখানে তার আত্মজীবনী 'হোয়াট ইজ ইট অল বাট লুমিনাস'-এর অংশবিশেষ এআই-জেনারেটেড পিয়ানোর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, তিনি আমেরিকার একমাত্র ব্যক্তি যার কাছে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেই।
তার সংগীত জীবনের শুরু ১৯৪৬ সালে, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। স্কুল জীবনেই পল সাইমনের সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৯৫৭ সালে 'টম অ্যান্ড জেরি' নামে তাদের প্রথম হিট গান 'হে, স্কুলগার্ল' মুক্তি পায়। এরপর তাদের সংগীত জীবনে আসে ব্যাপক সাফল্য। তবে ১৯৭০ সালে তাদের জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। সে সময় গারফাঙ্কেল অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন এবং মাইক নিকোলসের পরিচালনায় 'ক্যাচ-২২' ও 'কারনাল নলেজ'-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। এমনকি তিনি গণিতের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা তার জন্য কঠিন ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পার করা গারফাঙ্কেল জানান, ১৯৭৯ সালে তার সঙ্গী লরি বার্ডের মৃত্যু ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের বছর। এরপর তিনি দীর্ঘ পথ হাঁটার মাধ্যমে নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত করার চেষ্টা করেন। জাপান থেকে শুরু করে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ পায়ে হেঁটে পার করেছেন তিনি।
পল সাইমনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় কথা না হলেও গত বছর তাদের দেখা হয়েছে এবং তারা পুনরায় যোগাযোগের পরিকল্পনা করেছেন। তবে তাদের একসাথে আবারো ট্যুর করার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ৮৪ বছর বয়সেও তার নতুন নতুন স্বপ্ন রয়েছে—ভারত ও চীন ভ্রমণ করা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় গান গাওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি একজন গায়ক এবং মঞ্চের পর্দার আড়ালে নার্ভাস থাকলেও দর্শকদের হাততালি শোনার পর তিনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
























