ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে 'রিটার্ন হাব' বা প্রত্যাবর্তন কেন্দ্রে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের মধ্যেই শুরু করতে চায় ডেনমার্ক। ইউরোপের বাইরে এই ধরনের নির্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচটি দেশের এক বৈঠকের আগে ডেনমার্ক এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
গত জুনে ইইউ আইনপ্রণেতারা জোটের বাইরে অভিবাসী আটক কেন্দ্র বা 'রিটার্ন হাব' স্থাপনের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে যেকোনো ইইউভুক্ত দেশ এখন নিজস্ব উদ্যোগে বা ছোট জোটে বিভক্ত হয়ে ২৭ দেশের এই ব্লকের বাইরে অবস্থিত তৃতীয় কোনো দেশে এই কেন্দ্রগুলো তৈরি করতে এবং সেখানে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে আলোচনা চালাতে পারে।
কোপেনহেগেনে এই নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিসের মন্ত্রীদের স্বাগত জানান ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন। বৈঠক শুরুর আগে তিনি বলেন, যাদের বৈধভাবে থাকার অনুমতি নেই, তারা আমাদের দেশে বসবাস করতে থাকবে—এটি আমরা মেনে নিতে পারি না। একই সাথে আমরা অনিয়মিত অভিবাসীদের অংশীদার কোনো দেশে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার জন্য তৃতীয় কোনো দেশের সাথে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
এই পাঁচ দেশ মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার জন্য কেন্দ্র স্থাপনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পুরো ইইউর জন্য একটি অগ্রগামী উদ্যোগ। ডেনমার্কের সম্প্রচারমাধ্যম 'ডিআর'-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির অভিবাসন ও একীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী মর্টেন বোদসকভ বলেন, তিনি আশা করছেন ২০২৭ সালের মধ্যেই অ-ইইউ রিটার্ন হাবগুলো চালু হয়ে যাবে। অ-ইইউ দেশগুলোর সাথে আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কোপেনহেগেনে অস্ট্রিয়ার আশ্রয় ও অভিবাসন মন্ত্রী বার্ট ভ্যান ডেন ব্রিঙ্ক বলেন, আগামী বছরগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব রিটার্ন হাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য আজ আমরা ইউরোপীয় সহকর্মীদের সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর আগে আগস্টের শুরুতে রুয়ান্ডা সরকারের এক মুখপাত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, অন্য কোথাও থাকার অনুমতি না পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে আলোচনা করা তাদের সরকারের জন্য স্বাভাবিক।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপের বাইরে এই নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এসব স্থানে মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর করা কঠিন হবে। কাউন্সিল অব ইউরোপের মানবাধিকার বিষয়ক commissioner মাইকেল ও'ফ্ল্যাহার্টি এক ইমেইল বার্তায় সতর্ক করে বলেন, মানবাধিকার আইন মেনে চলার কেবল অস্পষ্ট আশ্বাসই যথেষ্ট নয়। মানবাধিকারের ব্লাক হোল বা অন্ধকার গহ্বর তৈরি হওয়া রোধ করতে রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রাসেলসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'পিকাম' (PICUM)-এর পরিচালক মিশেল লেভয় কোপেনহেগেনের এই বৈঠকের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইইউ নেতারা এই কেন্দ্রগুলোকে একটি উদ্ভাবনী সমাধান বলতে পারেন, তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আসলে মানুষকে চোখের আড়ালে নিয়ে যাওয়া এবং মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর একটি পুরোনো কৌশল মাত্র।




























