এমিরেটস স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বড় জয় পেয়েছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ (10) মিনিট আগে থেকেই এমিরেটস স্টেডিয়ামে দুই প্রিমিয়ার লিগ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল, যেখানে উভয় দলই মৌসুমের বড় শিরোপাগুলোর লক্ষ্যে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এক গোল পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জাবি আলোনসোর চেলসিকে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
শৈশবের দুই বন্ধু মিকেল আর্তেতা ও জাবি আলোনসোর ডাগআউট লড়াইয়ে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। আর্সেনালের হয়ে এই ম্যাচে পূর্ণ অভিষেক হয় নতুন সাইনিং ইজরি কনসার। স্বাগতিক গানার্সদের শুরুর একাদশে ছিলেন রায়া, হোয়াইট, কনসা, গ্যাব্রিয়েল, কালাফিওরি, রাইস, লুইস-স্কেলি, সাকা, ওডেগার্ড, জোলিস এবং হাভার্টজ। অন্যদিকে চেলসির হয়ে মাঠে নামেন মার্তিনেস, ফোফানা, লাক্রোয়া, জেমস, নেতো, আচেম্পং, লাভিয়া, হাতো, পামার, রজার্স ও পেদ্রো।
ম্যাচের শুরুতেই ঘরের মাঠের দর্শকদের স্তব্ধ করে চেলসিকে এগিয়ে নেন মরগান রজার্স। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে চমৎকার এক ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। মজার বিষয় হলো, এই রজার্সকে দলে ভেড়ানোর খুব কাছাকাছি ছিল আর্সেনাল, তবে শেষ মুহূর্তে চেলসি তাকে ছিনিয়ে নেয়। চলতি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে এটিই ছিল আর্সেনালের হজম করা প্রথম গোল, যা ২০২৩ সালের আগস্টে ফুলহামের বিপক্ষে ম্যাচের পর তাদের সবচেয়ে দ্রুততম গোল হজমের রেকর্ড। এই গোলের মাধ্যমে মৌসুমে চেলসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে, যা ব্রাইটনের সাথে যৌথভাবে লিগের সর্বোচ্চ।
গোল হজম করে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে আর্সেনাল. গোললাইনের স্ক্র্যাম্বল থেকে রিকার্ডো কালাফিওরি বল জালে জড়ালেও বিল্ড-আপে ইজরি কনসা অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল হয়। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি গানার্সরা। সাবেক আর্সেনাল গোলরক্ষক এমি মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বাম পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন কাই হাভার্টজ। চলতি মৌসুমে এটি জার্মান ফরোয়ার্ডের তৃতীয় গোল। এই গোলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে টানা ১৯ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে ব্যর্থ হলো চেলসি। প্রথমার্ধের শেষদিকে পেদ্রো নেতোর একটি শট গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোলটি পায় আর্সেনাল। বাম প্রান্ত থেকে কালাফিওরির পাস খুঁজে নেয় ক্রিস্টোস জোলিসকে। জোলিস বল বাড়ান ডি-বক্সে, যেখানে হাভার্টজের ডামি থেকে বল পেয়ে চেলসি গোলরক্ষক মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ২০২৬/২৭ মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা ওডেগার্ডের এই গোলেই লিড নেয় আর্সেনাল।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে দুই দলই বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। চেলসি কোচ জাবি আলোনসো গোলদাতা মরগান রজার্সকে তুলে নিয়ে সাবেক আর্সেনাল ফরোয়ার্ড ড্যানি ওয়েলবেককে মাঠে নামান। অন্যদিকে ব্যবধান ধরে রাখতে শেষ মুহূর্তে রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আনেন আর্তেতা। ম্যাচটি যখন শেষ ১৫ (15) মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) গড়ায়, তখন এমিরেটসে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চেলসি সমতা ফেরাতে না পারলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
এদিকে প্রিমিয়ার লিগের অন্য ম্যাচে এভারটন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইটি ২-২ (2-2) গোলে ড্র হয়। উক্ত ম্যাচের প্রথম ৩০ (30) মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং গোলের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল, যেখানে এভারটন ম্যাচে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে লড়াই করছিল। অন্য একটি ম্যাচে ৫-২ (5-2) ব্যবধানের বড় জয় দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা, যেখানে অভিষেককারী এইন্সলি মেটল্যান্ড-নাইলস ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ২৫ (25) গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত কার্লিং শটে গোল করে ল্যামেন্সকে স্তব্ধ করে দেন।





























