পাকিস্তানে গত এক মাস ধরে চলা টানা বর্ষণ এবং আকস্মিক বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে পড়ার কারণে। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ, যেখানে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক ঘটনা ঘটেছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে শহরের অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বাসিন্দাদের হাঁটু সমান পানি ভেঙে চলাচল করতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কর্তৃপক্ষ গত কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আবারও ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেই দুর্যোগে পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা তলিয়ে গিয়েছিল, যাতে মোট ১ হাজার ৭৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে দেশজুড়ে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।































