২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন সাংবাদিককে বলেছিলেন যে ইরান এখনো পর্যাপ্ত 'শাস্তি' পায়নি। তিনি সেই সময় একটি বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি বড় কোনো সিদ্ধান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। তবে এর চার দিন পর ২৭ জুলাই, সোমবার তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
৩১ জুলাই, শুক্রবার ট্রাম্প পুনরায় হুমকি দিয়ে বলেন, তারা খুব কঠোর আঘাত হানবেন এবং এক পর্যায়ে ইরান বলবে যে তারা আর সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু এই হুমকি দেওয়ার মাত্র একদিন পরই তিনি আবার পিছু হটেন। এর আগে ৭ এপ্রিল তিনি লিখেছিলেন, একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর ফিরে আসবে না। তবে মাত্র ১০ ঘণ্টা পরই তিনি তার এই জেনোসাইডাল হুমকি থেকে সরে আসেন। ১৭ মে তিনি দাবি করেন ইরানের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং ১৮ মে জানান, উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন।
এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ ও বারবার হুমকি দিয়ে পিছু হটার প্রবণতাকে 'কিন্ডারগার্টেন কূটনীতি' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একে একটি কৌশল মনে করলেও আদতে এটি তার প্রশাসনের অযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ। এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ট্রাম্পের এই প্রশাসনের ইরান নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই যুদ্ধের ব্যাপারে প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে বেশি সন্দিহান। অন্যদিকে, মার্কো রুবিও ফক্স নিউজে লারা ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরান ট্রাম্পের মতো এমন কোনো প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি কখনো হয়নি যিনি সরাসরি ব্যবস্থা নেন। এছাড়া ইসরায়েল হায়োমের তথ্য অনুযায়ী, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের মতো আলোচকরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সংঘাত কমিয়ে রাখার পক্ষে, যাতে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক নেতৃত্বও এখন ইরানকে মোকাবিলায় নতুন ও অপ্রচলিত উপায়ের খোঁজে রয়েছে। ট্রাম্পের এমন একটি প্রতীকী বিজয় বা 'আতশবাজি' প্রদর্শনের মতো হামলার কথা ভাবছেন যা দিয়ে তিনি পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সংকটের মুহূর্তে সাহসী ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিচয় দেয়, যা এখানে অনুপস্থিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই অস্থির ও অসংলগ্ন নীতিই যুক্তরাষ্ট্রকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।






























