কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ জানিয়েছেন যে, তিনি তার দীর্ঘদিনের মিত্র এবং সাবেক নিরাপত্তা প্রধান কামশিবক তশিয়েভকে নিজের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে চেয়েছিলেন। গত ১৩ আগস্ট সাংবাদিক আলি তোকতাকুনভের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জাপারভ এই কথা জানান। তবে তিনি আরও বলেন, তশিয়েভকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তিনি মত পরিবর্তন করেন কারণ তিনি মনে করেন তশিয়েভ এর জন্য প্রস্তুত নন। উল্লেখ্য, আপনি এই মাসে মাত্র ২ টি ফ্রি নিবন্ধ পড়ার সুযোগ পাবেন।
তশিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির স্টেট কমিটি ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির (এসসিএনএস) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিরগিজস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস বেশ পুরনো, যার একটি বড় উদাহরণ ২০১৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাযবেক আতামবায়েভের গ্রেপ্তার এবং ২০২০ সালের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, যা জাপারভকে কারাগার থেকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তশিয়েভকে হঠাৎ বরখাস্ত করা হয়। সে সময় জাপারভ বলেছিলেন, রাষ্ট্রের ঐক্য বজায় রাখা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বিভাজন রোধ করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
জাপারভ জানান, তিনি তশিয়েভকে নিজের বৃত্ত পরিষ্কার রাখা এবং উপযুক্ত লোকবল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তশিয়েভ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে কিরগিজস্তানের রাজনীতিতে তশিয়েভসহ আটজন নেতাকে ক্ষমতা দখলের চেষ্টার দায়ে আর্টিকেল ৩২৬ অনুযায়ী অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২৪.কেজি (24.kg) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসিকিউটর জেনারেল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং সাজা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন।
আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জাপারভ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৪ সালের শুরু থেকেই জাপারভের মিত্ররা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত সংবিধান অনুযায়ী, জাপারভের বর্তমান মেয়াদটি দুই মেয়াদের প্রথম হিসেবে গণ্য হয়। বিরোধী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনের দরজা খোলা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।
































