ডারউইনে প্রথম টেস্টে অপ্রত্যাশিত হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের জন্য নিজেদের একাদশ ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। পেস-সহায়ক কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে চার পেসার নিয়ে খেলার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লিয়নকেই একাদশে রেখে দিয়েছে তারা। শনিবার থেকে ম্যাকায়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে এসেছে কেবল একটি পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন ওপেনার জেক ওয়েদারঅ্যাল্ড, তার জায়গায় তিন বছর পর টেস্ট একাদশে ফিরেছেন ম্যাট রেনশ।
ম্যাকায়ের ভেন্যুটি গত এক দশকে মাত্র তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজন করেছে এবং এটিই এখানে প্রথম টেস্ট ম্যাচ। তাই কন্ডিশন কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও ভারত ‘এ’ দলের মধ্যকার চার দিনের ম্যাচে পেসাররা দাপট দেখিয়েছিলেন। তবে দুই বছর আগের সেই ম্যাচের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে রাজি নন অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনি জানান, খেলা যত গড়ায়, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য তত সহজ হয় বলে মনে হয়েছিল, তবে তা তো কয়েক বছর আগের কথা। এটাকে তথ্য হিসেবে নেওয়া যায়, কিন্তু এটাই দল নির্বাচনের একমাত্র ভিত্তি নয়। সিদ্ধান্ত মূলত কন্ডিশনের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়।
দলে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টার থাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাতে এমনিতেই পাঁচজন পেস বোলিংয়ের বিকল্প ছিল। ফলে কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডের সঙ্গে চতুর্থ পেসার হিসেবে স্কট বোল্যান্ডকে খেলানোর একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে বাদ পড়তে হতো লিয়নকে। গত ১৩ মাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কন্ডিশনের কারণে দল থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়েছিলেন এই অফস্পিনার। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকায় এবং অ্যাশেজের সময় ব্রিসবেনে গোলাপি বলের টেস্টে চতুর্থ পেসার খেলাতে গিয়ে লিয়নকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বাদ পড়া নিয়ে নিজের ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন লিয়ন।
দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্র্যাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লিয়ন, জশ হ্যাজেলউড।
এদিকে, প্রায় তিন বছর পর টেস্ট দলে ফেরা ম্যাট রেনশকে নিয়ে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া দল। কুইন্সল্যান্ডের হয়ে গত শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ৪৯.৯ গড়ে রান করা এই ব্যাটার টপ-অর্ডারের রানখরা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রান খরায় ভুগতে থাকা মার্নাস লাবুশেন নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। ডারউইনে বড় ব্যবধানে হেরে ব্যাকফুটে থাকা কামিন্স বাহিনী এই টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরাতে মুখিয়ে আছে।




























