ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের ‘অকল্পনীয়’ লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাকায় পৌঁছাতে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ দলের যথাক্রমে ৯ ও ১৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। আগামী ২২-২৬ আগস্ট ২০২৬, স্থানীয় সময় সকাল ১০:০০টা (আইএসটি ০৫:৩০টা) থেকে ম্যাকায়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সিরিজের ২য় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ডারউইনের তীব্র গরম ও আর্দ্রতার পর ম্যাকায়ের আবহাওয়া পুরোপুরি ভিন্ন। কুইন্সল্যান্ডের এই অঞ্চলে শীতের আমেজ থাকলেও পিচের আচরণ অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী টেস্ট উইকেটের মতোই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাকায়ের এই ভেন্যুটি অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছে। এখানকার কিউরেটর জানিয়েছেন, পিচটি পেস বোলারদের জন্য সহায়ক হবে। ডারউইনের তুলনায় এখানে বাড়তি বাউন্স পাওয়ার আশা করছেন মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্সরা। বৃষ্টির কিছুটা সম্ভাবনা থাকলেও তা খেলা খুব একটা বাধাগ্রস্ত করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। প্যাট কামিন্স মিডিয়ার সাথে কথা বলার ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত নাথান লিয়নকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার ওপরই আস্থা রেখেছে স্বাগতিকরা। ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে ফিরেছেন ম্যাথু রেনশ। অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ট্রাভিস হেড, ম্যাথু রেনশ, মারনাস ল্যাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বিউ ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লিয়ন ও জশ হ্যাজলউড।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলে শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। বিশেষ করে শান্ত ৩-২ পেস-স্পিন ফরমেশন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানিয়েছেন। নেটে কোচ ফিল সিমন্সের তত্ত্বাবধানে শরিফুলকে বেশ ছন্দে দেখা গেছে। শরিফুল দলে ফিরলে বাংলাদেশ তাদের বোলিং আক্রমণে পরিবর্তন আনতে পারে। ঘাড়ের সমস্যায় আগের ম্যাচে না থাকা তানজিদ হাসান সুস্থ হয়ে ফিরেছেন এবং ইনিংস উদ্বোধনে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম বা শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন।
ডারউইনের জয় বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্যাট কামিন্স ও তার দল এখন এই সিরিজটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্তর দল প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের অসাধ্য সাধনের অপেক্ষায় রয়েছে।





























