তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ইউরোপগামী একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২ জন। তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ড শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনা থেকে মাত্র একজন আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ডের মুখপাত্র হুসেম উদ্দিন জেবাবলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএপি-কে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে নিকটবর্তী জেরবা দ্বীপের একটি হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তিনি জাতীয় রেডিও স্টেশন মোজাইক এফএম-কে জানান, নৌকাটি যখন জারজিস ও বেন গুর্দেন শহরের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে, তখন সেটিতে প্রায় ১৫ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোজাইক এফএম-এর প্রতিবেদনে একমাত্র জীবিত বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার ভোরে রওনা হয়েছিল। এরপর শনিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে থাকা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একজন ফটোসাংবাদিক জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিবাসীরা সমুদ্রপথে ইতালির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের জন্য ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হলো তিউনিসিয়ার জারজিস শহর। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটটি ব্যবহার করে আসছেন অভিবাসীরা।
এর আগে ২০২২ সালেও এই জারজিস উপকূলে ১৮ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকা নিখোঁজ হওয়ার পর বড় ধরনের ট্রাজেডি ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর নিখোঁজদের পরিবারগুলো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধীরগতির উদ্ধার অভিযান এবং পরিচয় শনাক্ত না করেই কিছু মরদেহ দাফন করার অভিযোগ তুলে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনের হার কিছুটা কমলেও তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের বহু পরিবার সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া তাদের স্বজনদের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে তিউনিসিয়ার অভিবাসন সংক্রান্ত চুক্তির পর থেকে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের ওপর নানা ধরণের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীদের ওপর সহিংসতা, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং গণ-বহিষ্কারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছে তারা।





























