দুবাইয়ের একটি কোম্পানি ১৮ লাখ ৬০ হাজার দিরহাম মূল্যের একটি বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়ি কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছে। গাড়িটি কেনার পর জানা যায় যে, এটি একটি চুরি করা যান এবং ইন্টারপোলের তালিকায় এটি আন্তর্জাতিকভাবে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এই ঘটনায় জড়িত দুই এশীয় নাগরিককে দুবাইয়ের ফৌজদারি আদালত দুই মাসের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ অর্থ জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত তাদের দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশও প্রদান করেছেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে কোম্পানিটি গাড়িটি কেনার জন্য একটি চুক্তি সম্পন্ন করে। এর অংশ হিসেবে তারা ১২ লাখ দিরহাম নগদ এবং ৬ লাখ ৬০ হাজার দিরহাম ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করে। তবে গাড়িটি হস্তান্তরের এক মাস পরেই কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটিকে এটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, কারণ গাড়িটি আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া যানবাহনের তালিকায় ছিল।
ফৌজদারি আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন যে, আসামিরা নিজেদের মালিকানাধীন নয় এমন একটি চুরি করা গাড়ি বিক্রির অপরাধ করেছে। আসামিরা আদালতে তাদের অপরাধ স্বীকারও করেছিল। এই রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর আসামিরা আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায় এবং কাসেশন কোর্টে কোনো চ্যালেঞ্জ না আসায় রায়টি কার্যকর হয়।
পরবর্তীতে কোম্পানিটি দুবাইয়ের বাণিজ্যিক আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করে। সেখানে তারা গাড়ির পুরো মূল্য ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য ৫ লাখ দিরহাম ক্ষতিপূরণ এবং আইনি সুদ দাবি করে। আদালত ফৌজদারি রায়ের ওপর ভিত্তি করে জানান যে, গাড়িটি চুরি করা ছিল এবং বিক্রির কোনো বৈধ অধিকার আসামিদের ছিল না।
বাণিজ্যিক আদালত বিক্রয় চুক্তিটিকে বাতিল ঘোষণা করে এবং কোম্পানিকে তাদের পরিশোধিত ১৮ লাখ ৬০ হাজার দিরহাম ফেরত পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। আদালত বস্তুগত ক্ষতির জন্য ৩০ হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিলেও, নৈতিক ক্ষতির প্রমাণ না পাওয়ায় সেই দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন।
সূত্র: গালফ টুডে





























