ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের আঞ্চলিক সম্মেলনে চীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কোনো আলাপচারিতা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়েছে দেশ দুটি। জাপানের দাবি, দুই মন্ত্রীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথা হয়েছে। তবে বেইজিং এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানান, ফিলিপাইনে বৈঠক চলাকালীন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে আকস্মিক দেখা হলে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তবে জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের এই কথোপকথন মূলত শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোতেগি ও ওয়াং ই-র আলাপচারিতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চলছে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সোমবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জাপানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, "আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, ম্যানিলা সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র কার্যসূচিতে জাপানি পক্ষের সাথে কোনো বৈঠকের বিষয় ছিল না এবং সেখানে তাঁদের মধ্যে কোনো সংক্ষিপ্ত আলোচনাও হয়নি।"
দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী বক্তব্য মূলত টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বর্তমান শীতল সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। গত নভেম্বর মাসে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এরপর থেকে জাপান সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলেও চীন তাতে তেমন সাড়া দিচ্ছে না। এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও; জাপানে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমেছে এবং একে অপরের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে গত সপ্তাহে মোতেগি বলেছিলেন, "জাপান সব পর্যায়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আঞ্চলিক শান্তির জন্য জাপান ও চীন উভয়েরই বড় দায়িত্ব রয়েছে, তাই আমাদের সংলাপ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।"
তবে এই বিরোধের মূল সূত্রপাত হয়েছিল গত নভেম্বরে, যখন জাপানি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, চীন যদি তাইওয়ান অবরুদ্ধ করে বা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে সমষ্টিগত আত্মরক্ষা নীতির আওতায় জাপান সেখানে অংশ নেবে কি না। এই নীতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে (যেমন জাপানের অস্তিত্ব রক্ষা) টোকিও তাদের মিত্রদেশকে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে—সামরিক সহায়তা দিতে পারে।
তাকাইচি তখন জবাব দিয়েছিলেন, "যদি এতে যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার এবং সামরিক পদক্ষেপের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।"
তাকাইচির এই মন্তব্যকে চীন তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করা বেইজিং যেকোনো ধরনের স্বাধীনতা-পন্থী তৎপরতা বা তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো উদ্যোগের কড়া বিরোধিতা করে থাকে। তাকাইচি অবশ্য তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে পরবর্তীতে সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন যে ভবিষ্যতে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক আত্মরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলবেন।




























