হলিউড তারকা টম হল্যান্ডের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল স্পাইডার-ম্যান হিসেবে। তবে এই আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি সামলানোর প্রক্রিয়াটি তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। রিচ রোলের একটি পডকাস্টে তিনি নিজের বেড়ে ওঠা এবং তারকা জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। লন্ডনের অসামাজিক পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে রাস্তায় মানুষের হঠাৎ কাছে আসা বা ছবি তোলার আবদার মেনে নিতে তাঁর বেশ সময় লেগেছিল। হল্যান্ড জানান, লন্ডনের রাস্তায় কেউ কথা বলতে এলে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মনে হতো, কেন তারা এমনটা করছে? এমনকি কেউ সময় জিজ্ঞেস করলেও তিনি মনে মনে বিরক্ত হতেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে স্পাইডার-ম্যান ১ মুক্তির পর যখন মানুষ তাঁর সাথে ছবি তুলতে চাইত, তিনি তা অদ্ভুত মনে করতেন। শুরুতে তাঁর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল, আমি ছবি তুলতে চাই না। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি মানিয়ে নিয়েছেন। টম হল্যান্ড নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন যে তাঁর জীবন ধীরে ধীরে বদলেছে। স্পাইডার-ম্যান হওয়ার আগে তিনি প্রায় ১০ বছর অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাঁকে শুটিং সেট ও চলচ্চিত্র জগত সম্পর্কে শিখতে সাহায্য করেছে।
পারিবারিক দিক থেকেও টম হল্যান্ড নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেন। তাঁর বাবা স্ট্যান্ড-আপ কমেডির সাথে যুক্ত ছিলেন, যা বিনোদনের অত্যন্ত কঠিন একটি মাধ্যম। বাবার কাছ থেকে তিনি শিখেছেন কীভাবে ব্যর্থতাকে আড়াল করতে হয়। কোনো শো খারাপ হলেও পরের দিন বাবার আচরণে তার বিন্দুমাত্র ছাপ থাকত না। এই গুণটি তিনি নিজের অডিশনের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিনয় নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, প্রাইমারি স্কুলের ইয়ারবুকে তিনি বড় হয়ে ‘অভিনেতা’ হওয়ার ইচ্ছার কথা লিখে রেখেছিলেন, যদিও সচেতনভাবে তিনি কখনোই অভিনেতা হতে চাননি। নাচের স্কুলে যাওয়ার সময় হেডমাস্টারের পরামর্শে ‘বিলি এলিয়ট’ অডিশন দিয়ে তিনি চরিত্রটি পেয়ে যান। এরপর ‘দ্য ইম্পসিবল’ সিনেমায় কাজের পর অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে হল্যান্ড জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। তবে ঘোষণা দেওয়ার পর মানুষ ভুল ব্যাখ্যা করে বলেছিল যে তিনি খ্যাতির চাপ নিতে পারছেন না। অথচ তিনি শুধু চেয়েছিলেন ফোন থেকে চোখ তুলে বাস্তব পৃথিবীর সাথে যুক্ত হতে। এখন তিনি ফোনে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ রাখেন না, যা তাঁর জীবনকে আরও সুন্দর করেছে। তিনি মনে করেন, কাজ করতে করতে ভেঙে পড়ার আগে বিরতি নেওয়া জরুরি।
নিজের কাজের ক্ষেত্রে বাবার একটি উপদেশ তিনি সব সময় মনে রাখেন। বাবা তাঁকে বিখ্যাত কমেডিয়ান লি ইভান্সের গল্প শুনিয়েছিলেন, যিনি মঞ্চে পারফর্ম করার সময় নিজের চোখ চকচক করার কথা বলতেন। বাবা তখন মনে মনে ভাবতেন, সামনে দর্শক তো মোটে ২০০ জন! এই শিক্ষা থেকে টম হল্যান্ড শিখেছেন, সামনে এক লাখ মানুষ থাকুক কিংবা পাঁচজন, নিজের সেরাটা দেওয়াই হলো মূল লক্ষ্য।




























