মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করছে রাশিয়া—এমনটাই অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রাশিয়ার দেওয়া এই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, জুলাই মাসের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি চালানোর বিষয়টি তারা রেকর্ড করেছেন। তিনি জানান, এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো পরবর্তীতে ইরানের কাছে পৌঁছায়। রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারির সঙ্গে ইরানি হামলার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, হামলার আগে প্রস্তুতি হিসেবে এবং হামলার পরে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য এই ছবিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার এই অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। সিবিএস নিউজের 25 জুলাই, 2026 তারিখের বিকেল 4:03 মিনিটের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া। গত কয়েক মাস ধরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই অভিযোগ উঠে এসেছে, যেখানে চীনের জড়িত থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে রাশিয়া ও চীনের ইরানকে সহায়তার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক উত্তর দেন। হেগসেথ বলেন, সেখানে অবশ্যই শত্রুদের একটি জোট গড়ে ওঠার চেষ্টা চলছে এবং আমরা তা প্রতিহত করার নানা উপায় অবলম্বন করছি। এর গভীরতা ও পরিধি শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফাইড) থাকা উচিত। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন স্তরে এই দুই দেশ ইরানের কিছু কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে।
কিন্তু এর মাত্র কয়েক দিন পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য খণ্ডন করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্বাস করেন না যে রাশিয়া বা চীন ইরানকে সাহায্য করছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উভয়েই তাঁকে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা এর সাথে জড়িত নন। ট্রাম্পের মতে, এই দুটি বড় দেশ ইরানের বিষয়ে অংশ নিচ্ছে না এবং যদি তারা তা করত, তবে সেটি তাদের নিজেদের জন্যই খুব খারাপ হতো।
তবে জেলেনস্কি নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার এই সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইটের নজরদারির আওতায় আসে চারটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি। এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে এবং একটি কুয়েতে অবস্থিত। জেলেনস্কি বলেন, এর উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট। মন্দ সবসময় পরিস্থিতি আরও খারাপ করার এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার পথ খোঁজে। তাই বিশ্ববাসীর এই বিষয়ে চোখ বন্ধ রাখা উচিত নয় এবং রাশিয়াকে এখনই থামাতে হবে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অতি সম্প্রতি জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় তিনজন এবং ইরাকে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার সময় একজনসহ মোট চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন। এর আগে গত মার্চ মাসে কুয়েতে ইরানি হামলায় hostage ছয়জন, ইরাকে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় একজন মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানি বিমান হামলায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।































