১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান আম ১০৩ ফ্লাইটে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত লিবিয়ার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিচার স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। নতুন কিছু তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসায় তা খতিয়ে দেখতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত আবু আকিলা মোহাম্মদ মাসউদ খায়ের আল-মারিমির বিরুদ্ধে ওই বিমান বিধ্বংসী বোমা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটন ডি.সিতে তার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য জুরি নির্বাচনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। ১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বরের ওই হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম বিচার প্রক্রিয়া। তবে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ড্যাবনি ফ্রিডরিখ সোমবার এক আদেশে বিচার স্থগিত করেন। অবশ্য নতুন প্রমাণের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আল-মারিমির আইনজীবীরা জানান, গত শনিবার প্রসিকিউটররা তাদের কাছে এই নতুন প্রমাণ হস্তান্তর করেছেন। বিবাদী পক্ষের সহকারী পাবলিক ডিফেন্ডার লরা কোয়েনিগ জানান, পেশাগত নৈতিকতা ও সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তাদের এই নতুন তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারক ফ্রিডরিখ।
লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া প্যান আম ফ্লাইট ১০৩ উড্ডয়নের ৩৮ মিনিট পর লকারবির আকাশে ৩১ হাজার ফুট উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়। এই হামলায় বিমানের ২৫৯ জন আরোহী এবং লকারবির মাটিতে থাকা ১১ জনসহ মোট ২৭০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জন মার্কিন এবং ৪৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ মোট ২১টি দেশের নাগরিক ছিলেন। এদের মধ্যে ৩৫ জন সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, যারা বিদেশে সেমিস্টার শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর মতে, ৯/১১ হামলার আগে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ বিমান সন্ত্রাসবাদ।
প্যান আম ফ্লাইট ১০৩-এর ভিকটিমদের পরিবারের সংগঠন ‘ভিকটিমস অব প্যান আম ফ্লাইট ১০৩’-এর সভাপতি কারা ওয়েইপজ জানান, বিচার স্থগিতের এই সিদ্ধান্তে তারা আকস্মিক ধাক্কা খেয়েছেন, কারণ অনেক স্বজন ইতিমধ্যেই আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তিনি বলেন, "বিগত প্রায় ৩৮ বছর ধরে আমরা সত্যের সন্ধান করছি। যদি এই নতুন তথ্যে সত্য বেরিয়ে আসে, তবে এই বিলম্ব মেনে নেওয়া যায়। সব তথ্য জানাটা আমাদের জন্য জরুরি।" এই হামলায় কারার ভাই রিচার্ড মোনেত্তি নিহত হয়েছিলেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির নির্দেশে আল-মারিমি ও তার সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছিলেন। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধে গাদ্দাফি নিহত হন। বর্তমানে সত্তরোর্ধ্ব আল-মারিমির বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার আইনজীবী হোয়াইটনি মিন্টার আদালতে আল-মারিমির পক্ষে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবেদন করেন। এর আগে ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডসে স্কটল্যান্ডের বিচারকদের অধীনে অপর দুই লিবিয়ান গোয়েন্দার বিচার হয়েছিল, যেখানে একজন দোষী সাব্যস্ত ও অন্যজন খালাস পান। আল-মারিমিকে ২০২০ সালে প্রথম অভিযুক্ত করা হয় এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাকে মার্কিন হেফাজতে নেওয়া হয়।



























