ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে ব্যাকফুটে থাকা দলটির কোচ সরফরাজ আহমেদ ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। চলতি সিরিজে এটি পাকিস্তানের টানা তৃতীয় ২০০-র নিচের স্কোর। এর আগে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৭১ ও ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ আহমেদ স্বীকার করেন যে, দলের ব্যাটিং বিভাগ বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের দল মাত্র ৩০ বা ৩৫ ওভারের মধ্যে অলআউট হয়ে যাচ্ছে, এই সত্যটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ব্যাটাররাও বুঝতে পারছে যে তারা ক্রিজে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারছে না।”
কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটারদের উইকেটে টিকে থাকার পরামর্শ দিয়ে পাকিস্তান কোচ বলেন, “উইকেটের পরিস্থিতি অবশ্যই ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে যে ব্যাটার ক্রিজে বেশি সময় কাটিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি বল খেলবেন, তিনি সুবিধা পাবেন। প্রথম ৩০-৪০টি বল খেলা কঠিন, কিন্তু একবার এই সময়টা পার করতে পারলে আমরা ভালো অবস্থানে যেতে পারব।”
এই প্রসঙ্গে তিনি ২১ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার আজান আওয়াইসের উদাহরণ টানেন, যিনি ১০২ বল খেলে ৪৬ রান করেন। বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে জোফরা আর্চারের গতিময় ও aggression-ভরা স্পেল যেভাবে আওয়াইস সামলেছেন, তার প্রশংসা করেন সরফরাজ। তিনি বলেন, “আজান আওয়াইসকে টুপি খোলা অভিনন্দন। আর্চারের ওই স্পেলটি সে যেভাবে সামলেছে, তা তার ক্যারিয়ারের জন্য দারুণ ইতিবাচক। কঠিন সময়ে মানসম্পন্ন বোলিংয়ের মুখোমুখি হওয়াটা একজন ব্যাটার হিসেবে তাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।”
ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তান দল গঠনে পরিবর্তন এনেছিল বলেও জানান সরফরাজ। তবে তার কোনো প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “প্রথম টেস্ট এবং এই টেস্টের প্রথম ইনিংস—কোনোটিতেই আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। এই ম্যাচে আমরা বোলিং অনেক ভালো করেছি, কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েই গেছে। ব্যাটিং শক্তিশালী করতেই আমরা কম্বিনেশন সাজিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটি কাজে আসেনি।”
গত এক বছরে পাকিস্তানের লাল বলের ক্রিকেট কম খেলাকে অনেকে এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখছেন। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের কারণে গত বছর পাকিস্তান প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। তবে এটিকে পুরোপুরি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নন সরফরাজ। তিনি বলেন, “এটি একটি বড় বিষয় ঠিকই, তবে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের যেকোনো ফরম্যাটের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে।”
বর্তমানে ইংল্যান্ডের লিড ২৬১ রানে পৌঁছে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তবে ম্যাচের তৃতীয় দিনে অলৌকিক কিছুর আশা ছাড়ছেন না সরফরাজ। দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখনো আশাবাদী। ক্রিকেটে অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। আমরা যদি আগামী ৭০-৮০ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডকে অলআউট করতে পারি এবং লক্ষ্য যদি ৩৫০ রানের নিচে থাকে, তবে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।”





























