১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা। আজ তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পূর্ণ হলো। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এই নারীর অকাল প্রয়াণ বিশ্ববাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করেছিল। প্যারিসের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
ডায়ানা ফ্রান্সিস স্পেন্সারের জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই। যুক্তরাজ্যের নরফোকের স্যান্ড্রিংহামের পার্ক হাউসে বেড়ে ওঠা ডায়ানা ব্রিটিশ অভিজাত স্পেন্সার পরিবারের সন্তান। তাঁর শৈশব খুব একটা সুখকর ছিল না; মাত্র সাত বছর বয়সে তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৬৯ সালে তাঁর মা এবং ১৯৭৬ সালে তাঁর বাবা পুনরায় বিয়ে করেন। ১৯৭৫ সালে দাদা অষ্টম আর্ল স্পেন্সারের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা জন স্পেন্সার উপাধিটি গ্রহণ করেন।
শৈশবে নরফোকের রিডলসওয়ার্থ হল স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন ডায়ানা। এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি কেন্টের ওয়েস্ট হিথ গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। পড়াশোনায় খুব একটা মেধাবী না হলেও, ১৯৭৯ সালে লন্ডনে ফিরে তিনি বিভিন্ন ছোটখাটো চাকরি করেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে স্পেন্সার পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল, যার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল।
১৯৭৭ সালে যুবরাজ চার্লসের সঙ্গে ডায়ানার প্রথম দেখা হয়। ১৯৮০ সালের গ্রীষ্মে বালমোরাল ক্যাসেলে চার্লসের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয়। ১৯৮১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চার্লস তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বাগ্দান সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২৯ জুলাই লন্ডনের সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে তাঁদের রাজকীয় বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিয়ের পর ‘প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ উপাধি পাওয়া ডায়ানা দ্রুতই জনহিতকর কাজে জড়িয়ে পড়েন। তিনি শতাধিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গৃহহীন ও অসুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৮২ সালের ২১ জুন প্রিন্স উইলিয়াম এবং ১৯৮৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রিন্স হ্যারির জন্ম হয়। তবে রাজপরিবারের কঠোর নিয়মকানুন ও চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি বয়ে আনে। ১৯৯২ সালে তাঁরা আলাদা থাকার ঘোষণা দেন এবং ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
বিচ্ছেদের পর ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ-পাকিস্তানি হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ হাসনাত খানের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্কের কথা শোনা যায়। এরপর ১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে মিসরীয় ধনকুবের মোহাম্মদ আল-ফায়েদের ছেলে দোদি আল-ফায়েদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। আগস্টের শেষ দিকে তাঁরা ফ্রান্সের সেন্ট ট্রোপেজে অবকাশ যাপন করেন।
৩১ আগস্টের সেই রাতে প্যারিসের রিটজ হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় পাপারাজ্জিদের ধাওয়া থেকে বাঁচতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো হচ্ছিল। হোটেলের নিরাপত্তা বিভাগের উপপ্রধান অঁরি পলের চালিত মার্সিডিজ গাড়িটি পঁ দ্য ল’আলমা আন্ডারপাসের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই দোদি আল-ফায়েদ ও চালক অঁরি পল নিহত হন। গুরুতর আহত ডায়ানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই দুর্ঘটনা নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম হয়। ১৯৯৮ সালে দোদির বাবা মোহাম্মদ আল-ফায়েদ অভিযোগ করেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ও প্রিন্স ফিলিপের দিকে আঙুল তোলেন। তবে ১৯৯৯ সালের ফরাসি বিচারিক তদন্তে একে দুর্ঘটনা হিসেবেই অভিহিত করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০০৮ সালের রায়ে জুরি সিদ্ধান্ত দেন যে, চালক অঁরি পলের চরম অবহেলা এবং পাপারাজ্জিদের বেপরোয়া আচরণের কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লন্ডনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে তখনো কেউ জানত না, কী ভয়াবহ খবর অপেক্ষা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে চলে গেছেন সেই মানুষটি, যাঁকে সে সময় প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী হিসেবে বর্ণনা করা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় তিন দশক হলো, ডায়ানা শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তাঁর জীবন, কর্ম ও মৃত্যু নিয়ে জনসমাজে ও গণমাধ্যমে চর্চা থেমে নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে তাঁর মৃত্যু ঘিরে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ প্রশ্ন থেকেই সামনে এসেছে নানা সন্দেহ, জল্পনা ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেমন ব্রিটিশ রাজপরিবার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টম সাইকস ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর নিজস্ব সাবস্ট্যাক প্ল্যাটফর্মে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিরোনাম—‘কেন আমি বিশ্বাস করি, রাজকুমারী ডায়ানাকে হত্যা করা হয়েছিল’।
সূত্র: প্রথম আলো




























