এনজো ফার্নান্দেজের ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের দলবদল তাকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ১৯তম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি’র অধিকারী করেছে। ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স এবং লিডস ইউনাইটেড—এই সাতটি ক্লাব বিভিন্ন সময়ে ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙেছে। তবে সব খেলোয়াড়ই তাদের বিশাল দামের প্রতিদান দিতে পারেননি।
২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার সিটির মালিকানা পরিবর্তনের পর তারা একটি বড় চমক দিতে চেয়েছিল। তবে সেই সময়ের রেকর্ড সাইনিং খুব একটা কার্যকর হয়নি। পল পগবার কথা বললে, তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু ইউনাইটেডে তার সময়টা ছিল এক বিশৃঙ্খল অধ্যায়। শেষ পাঁচ মৌসুমে কোনো ট্রফি ছাড়াই তিনি ক্লাব ছেড়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ম্যানচেস্টারে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হন এবং এক মৌসুম পরই পিএসজিতে পাড়ি জমান। অন্যদিকে, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন একজন দারুণ খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও প্রিমিয়ার লিগে তার জাদু দেখাতে পারেননি। আন্দ্রে শেভচেঙ্কো বেলন ডি’অর জিতে চেলসিতে এলেও পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়।
আলেকজান্ডার ইসাক লিভারপুলে খুব একটা সফল হতে পারেননি, চোট এবং ফর্মহীনতা তাকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ফার্নান্দো তোরেস লিভারপুলের চেয়ে চেলসিতে বেশি ম্যাচ খেললেও গোল পেয়েছেন অনেক কম, যদিও ব্লুজদের হয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ ও ইউরোপা লিগ জিতেছিলেন। স্ট্যান কলিমোর লিভারপুলের হয়ে দুই মৌসুমে ৫০টি গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখলেও তাকে ব্যর্থ হিসেবেই দেখা হয় কারণ তিনি দলকে লিগ শিরোপা জেতাতে পারেননি। এনজো ফার্নান্দেজ চেলসিতে শুরুতে সংগ্রাম করলেও এখন ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছেন। জ্যাক গ্রিলিশ ম্যানচেস্টার সিটিতে ট্রিবল জিতলেও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে খুব একটা উজ্জ্বল নন। ক্রিস সাটন ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সে শিরোপা জিতলেও তার ক্যারিয়ার ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার।
রুড ভ্যান নিস্টলরয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দারুণ গোল স্কোরার ছিলেন, তবে তার সময়ে ইউনাইটেড খুব বেশি ট্রফি জিততে পারেনি। অন্যদিকে, ডেনিস বার্গক্যাম্প আর্সেনালের হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও তিনটি এফএ কাপ জিতেছেন এবং তার ফুটবল শৈলী ছিল অতুলনীয়। অ্যালান শিয়ারার নিউক্যাসলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি। তবে ব্ল্যাকবার্নে তার সময়টা ছিল ট্রফি জয়ের এবং ব্যবসায়িকভাবেও ক্লাবটি লাভবান হয়েছিল। অ্যান্ডি কোলের সাত বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং ট্রেবল জয় তাকে সফলদের তালিকায় রাখে। রিও ফার্ডিনান্ড এক যুগের বেশি সময় ধরে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ সামলেছেন। সবশেষে রয় কিন, যিনি রেকর্ড ভেঙে আসার পর ইউনাইটেডের সাফল্যের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন এবং এরিক কান্টোনা পরবর্তী যুগে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অপরাজেয় করে তোলেন।
























