যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের দুই শীর্ষ সহযোগী পদত্যাগ করেছেন। দলটির বিরুদ্ধে বিদেশি তহবিল সংক্রান্ত ব্রিটিশ নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৪-এর একটি ছদ্মবেশী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সিবিএস নিউজ ২০২৬ (2026) সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫:২৬ (5:26) মিনিটে এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ (2024) সালের নির্বাচনের পর থেকে দলটির ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পদত্যাগ করা দুই কর্মকর্তা হলেন জেমস অর ও ড্যান জুকস। জুকসকে রিফর্ম পার্টির প্রধান নাইজেল ফারাজের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মদর্শনের সহযোগী অধ্যাপক ও ধর্মতত্ত্ববিদ জেমস অর দলটির নীতি নির্ধারণী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তারা দুজনেই কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। রিফর্ম পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব থেকে দূরে থাকবেন।
চ্যানেল ৪-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, একজন সাংবাদিক নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিংয়ের এক ধনী ব্যবসায়ীর ব্রিটিশ-শিক্ষিত ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি রিফর্ম পার্টিকে বড় অঙ্কের তহবিল দিতে চান বলে জানান। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলে কেবল যুক্তরাজ্যের নিবন্ধিত ভোটার বা দেশীয় কোম্পানিই অনুদান দিতে পারে। এই ছদ্মবেশী অভিযানে, ছেলেটি অনুদান দেওয়ার যোগ্য হলেও তার বাবা (যিনি একজন বিদেশি নাগরিক) তা পারতেন না।
গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই সহযোগী ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক জরিপের অর্থায়নের জন্য ৩২,৫০০ ব্রিটিশ পাউন্ড (প্রায় ৪৪,০০০ ডলার) অনুদানের ব্যবস্থা করছেন। পরবর্তীতে এই জরিপগুলো ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘টাইমস অব লন্ডন’-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেখানে রিফর্ম পার্টির পক্ষে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। তবে এই জরিপগুলোর পেছনে দলটির সম্পৃক্ততার কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া, নির্বাচনী আইন ফাঁকি দিয়ে দলটিতে আরও ৫,০০,০০০ (500000) ব্রিটিশ পাউন্ড (বা প্রায় ৬,৭৫,০০০ (675000) ডলার) বিদেশি অনুদান আনার বিষয়েও জুকস ও ওই ছদ্মবেশীর মধ্যে আলোচনা হয়। তবে চ্যানেল ৪ জানিয়েছে, এই অনুদান শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে একটি মধ্যাহ্নভোজে নাইজেল ফারাজ নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ফারাজ জরিপের অর্থায়ন সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে মনে হয় এবং বিদেশি অনুদান দলের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি ধন্যবাদ জানান।
এ ঘটনার পর নাইজেল ফারাজ এলবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তার দল কোনো অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেনি। তবে তিনি একে একটি সুপরিকল্পিত ‘ফাঁদ’ (এন্ট্র্যাপমেন্ট) বলে অভিহিত করেছেন। এই অভিযোগগুলো ফারাজের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ ক্রিপ্টো-বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে পাওয়া একটি বহু-মিলিয়ন পাউন্ডের অনুদান নিয়ে ইতিমধ্যে একটি সংসদীয় তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, চ্যানেল ৪ তাদের প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে সবাইকে পুরো অনুসন্ধানটি দেখার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ১১,১৮০ (11180) পাউন্ডের বেশি মূল্যের সমস্ত বৈধ অনুদান এবং ৫০০ (500) পাউন্ডের বেশি মূল্যের সমস্ত অবৈধ অনুদান রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক। কমিশন আরও জানায়, অনুদান নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর যেকোনো সম্ভাব্য প্রচেষ্টার বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল এই বিষয়ে তদন্তের জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। পুলিশ ও যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।






























